সরকার সবক্ষেত্রে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চায় : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে। সরকার সবক্ষেত্রে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চায়। জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এ প্রতিজ্ঞাই করবো- এই দেশকে সবদিক থেকে উন্নত ও সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

শনিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৮ সালেই দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে। দ্বিতীয়বার সরকারে এসে সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে সরকার। খাদ্যের সঙ্গে পুষ্টিও যাতে যোগ হয়, সরকার তার ব্যবস্থা নিয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে তরুণদের চাকরির পেছনে না ছুটে মৎস্য উৎপাদনের মত আত্মকর্মসংস্থানমূলক খাতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজ পড়ালেখা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই যদি মৎস্য খামার গড়ে তোলে মাছ উৎপাদন ও বিক্রি করে- তাহলে তা থেকে অর্থ পেতে পারে। এজন্য সরকার সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। সেখানে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য যাতে প্রক্রিয়াজাত করা যায়, এখন সেই সুযোগটাও সৃষ্টি হচ্ছে।

মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে মৎস্যখাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শিক্ষিত তরুণ নিজেরাই মৎস্য খামার করে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এ লক্ষ্যে সরকার যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থা করেছে। এই খাতে কাজ করার জন্য তরুণরা কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে জামানত ছাড়া ঋণ নিতে পারবেন, আয় বৃদ্ধি করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন।

মৎস্যখাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নদী-নালা ও খাল-বিলের দেশ। এদেশে শত শত নদী রয়েছে। খাদ্য তালিকায় সব থেকে নিরাপদ পুষ্টি মাছই দেয়। একটা মানুষ ৬০ গ্রাম মাছ খেতে পারলে তার জন্য যথেষ্ঠ। সেখানে সরকার এখন প্রতিটি মানুষ যাতে ৬২ গ্রাম পর্যন্ত পায়, সেটা নিশ্চিত করেছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতেও সরকার বিশেষ যত্ম নিচ্ছে। এজন্য খাল-বিল ও জলাধারকে সংস্কার ও সংরক্ষণ করার কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে যাতে আরও বেশি পরিমাণ মাছ উৎপাদন হয়, তার ব্যবস্থাও নিচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার গবেষণার ওপর জোর দিয়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার পর পুষ্টি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ায় এখন মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগছে না। খাদ্য তালিকায় ভাতের পাশাপাশি মাছ, তরিতরকারি ও সবজি এবং ফলমূলসহ পুষ্টিসমৃদ্ধ রাখার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের পদক্ষেপে খাল-বিল ও জলাধার সংস্কারের ফলে দেশে মাছের উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি হয়েছে। সরকার ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতেও যথেষ্ঠ পদেক্ষপ নিয়েছে। ফলে ইলিশ উৎপাদনেও বাংলাদেশ এখন এক নম্বরে।

তিনি বলেন, মাছের প্রজনন সময়ে মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দের পাশাপাশি প্রত্যেককে বিনা পয়সায় চাল-ডালসহ খাদ্য সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। ওই সময় মৎস্যজীবীরা যাতে আর্থিক কষ্টে না পড়েন, সেজন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে।

মৎস্যজীবী লীগকে আরও সুসংগঠিত করার পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস যাতে করো কোনো ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। নিজে সুরক্ষিত থাকতে হবে, অপরকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি সায়ীদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আজগর নস্করের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার, শাহাবুদ্দীন ফরাজী, মৎস্যজীবী লীগের কার্যকরী সভাপতি সাইফুল আলম মানিক প্রমুখ। সভা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।

এর আগে সকালে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীরা রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন তারা।

Share