পাকিস্তানে ভারতীয় গীতিকার জাভেদ আখতারের বিস্ফোরক মন্তব্য

বিনোদন ডেস্ক : ২০০৮ সালে ভারতের বাণিজ্য নগরী মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা এখনো পাকিস্তানে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ভারতের খ্যাতিমান গীতিকার ও কবি জাভেদ আখতার। গত সপ্তাহে দেশটির লাহোরে কিংবদন্তি উর্দু কবি ফয়েজ আহমেদ স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। খবর এনডিটিভির।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাভেদ আখতারে মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে; সেই ভিডিওতে দেখা গেছে, তাঁর উদ্দেশে এক দর্শক বলছেন, ‘আপনি বহুবার পাকিস্তানে এসেছেন, আপনি ভারতে ফিরে গিয়ে ভারতের জনগণকে বলবেন, তারা ভালো মানুষ। তারা আমাদের শুধু বোমাই মারে না, মালা ও ভালোবাসা দিয়ে বরণ করে নেয়।’

পাকিস্তানি সেই দর্শককে জাভেদ আখতার বলেন, ‘আমাদের একে অপরকে দোষারোপ করা ঠিক নয়, এতে কোনো সমস্যার সুরাহা হবে না। উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ প্রশমন করা উচিত। আমরা মুম্বাইয়ের মানুষ, এই শহরে সন্ত্রাসী হামলা হতে দেখেছি। সন্ত্রাসীরা নরওয়ে কিংবা ইরাক থেকে আসেনি। তারা এখনো আপনার দেশে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে ভারতীয় জনগণ রাগ দেখালে সেটা নিয়ে আপনি কোনো অভিযোগ করতে পারেন না।’

যুগের পর যুগ ধরে ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে ‘দা–কুমড়ো’ সম্পর্ক রয়েছে, কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে সংস্কৃতিক যোগাযোগেও ভাটা পড়েছে। জাভেদ আখতার অভিযোগ করছেন, ভারতীয় শিল্পীকে পাকিস্তানে স্বাগত জানানো হয় না, কিন্তু পাকিস্তানি কিংবদন্তিদের নিয়ে ভারতে বহু অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘যখন ফয়েজ সাহেব ভারতে গিয়েছেন, তখন তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছে। তাঁর অনুষ্ঠান টিভিতে প্রচার করা হয়েছে। আমরা নুসরাত ফতেহ আলী খান ও মেহেদী হাসানের অনুষ্ঠান করেছি। আপনারা লতা মুঙ্গেশকরকে নিয়ে কোনো আয়োজন করেছেন?’

জাভেদ আখতারের বক্তব্য ধরে ভারতের গণমাধ্যমে তুমুল আলোচনা চলছে, তবে দ্য ডনসহ পাকিস্তানের কোনো গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এক টুইটে বলিউড তারকা কঙ্গনা রনৌত লিখেছেন, ‘আমি যখন গুলজার সাহেবের কবিতা শুনি, তখন ভাবি, সরস্বতীর কতটা আশীর্বাদ পেয়েছেন তিনি। ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেতে ব্যক্তির মধ্যেও কিছু থাকতে হয়। আপনি তাঁদের নিজেদের উঠানেই হারিয়ে দিয়েছেন।’

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ে তাজ হোটেল, ছত্রপতি শিবাজি রেলওয়ে স্টেশনসহ প্রায় ১২টি স্থাপনায় একযোগে সন্ত্রাসী হামলা হয়। এ হামলায় ১৬৬ জন নিহত হন। এই হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাকে দায়ী করে আসছে ভারত। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও স্বীকার করেছেন, সেই হামলায় পাকিস্তানিরাই অংশ নিয়েছেন।

Share