
গাজী আবু বকর : চলতি অর্থবছরে গত জুলাই থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ব্যংকিং চ্যানেলে দেশে ২৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। রেমিট্যান্সের এই উচ্চ প্রবাহের কারণে বাজার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রচুর ডলার কিনছে। ফলে দীর্ঘ ৩৯ মাস পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে আবার ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গত সপ্তাহের শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়,রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় আসে২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। দ্বিতীয় মাসআগস্টে প্রবাসী আয় আসে২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয় আসে২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অক্টোবর মাসে প্রবাসী আয় আসে২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার। নভেম্বর মাসে প্রবাসী আয় আসে২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয় আসে৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। জানুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় আসে৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় আসে৩০১ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। মার্চ মাসে প্রবাসী আয় আসে৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আর চলতি মাসের গত ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছে ২৫৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২২ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ নামে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে গত মঙ্গলবার ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার কিনেছে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত কেনা হয়েছে ৫৪৭ কোটি ডলার। এতে মোট রিজার্ভ বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। যদিও আইএমএফের হিসাব পদ্ধতিতে বিপিএম ৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।
২০২৩ সালের জুন থেকে বিপিএম ৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সময় রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তবে অর্থ পাচার বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে সেখান থেকে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ কমে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী-চলতি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২৫৭ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি এ কয়েক দিনের তুলনায় যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। আর অর্থবছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।
