এমপিরা শুল্কমুক্ত গাড়ির পরিবর্তে পাবেন সরকারি গাড়িসুবিধা

গাজী আবু বকর : সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ির পরিবর্তে দেয়া হবে সরকারি গাড়িসুবিধা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। এ-সংক্রান্ত ‘দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার-১৯৭৩ সংশোধন বিল’ আজ রোববার পাস হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটির ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। এর ফলে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিলটি সংসদে পাস হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনের সংশোধনীর বিষয়টি অনুমোদন করা হয়। এখন রাষ্ট্রপতি বিলটি সই করলে এটি আইনে পরিণত হবে। তবে সংসদ সদস্যরা সরকারি গাড়িসুবিধার দাবি তুলেছেন। তাঁরা শুল্কমুক্ত নয়, এমপিদের জন্য ডিসি-ইউএনওদের মতো গাড়ির কথা বলেছেন। সে অনুযায়ী আজ সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। পরে প্রস্তাবটি সংসদে পাস হয়। এই কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ দিন।
সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করার বিল পাসের মাধ্যমে আইনের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধাসংক্রান্ত ধারা (৩সি) বিলুপ্ত করা হয়েছে। এ ধারায় বলা ছিল, একজন সংসদ সদস্য তাঁর পুরো মেয়াদকালে শুল্কমুক্তভাবে, উন্নয়ন সারচার্জ এবং আমদানি পারমিট ফি ছাড়া সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিবরণ ও শর্ত অনুযায়ী একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করার অধিকারী হবেন। এতে আরও বলা ছিল, একজন সংসদ সদস্য সর্বশেষ আমদানির তারিখ থেকে পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আরেকটি নতুন গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করার অধিকারী হবেন। প্রসঙ্গত, সরকারি দল ও বিরোধী দল আগেই বলেছিল, তারা কেউ শুল্কমুক্ত গাড়িসুবিধা নেবেন না। সে অনুযায়ী আইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বিশেষ কমিটি গঠন: শুল্কমুক্ত নয়, এমপিদের জন্য ডিসি-ইউএনওদের মতো গাড়ির কথা বলেছেন। সে অনুযায়ী গতকাল সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। পরে প্রস্তাবটি সংসদে পাস হয়। এই কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ দিন। কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সরকারি দলের সদস্য মঈনুল ইসলাম খান। বিরোধী দলের সদস্যরা হলেন সাইফুল আলম, নুরুল ইসলাম, মো. আবদুল বাতেন, আবুল হাসনাত ও মোহাম্মদ আবুল হাসান।
এছাড়াও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সুপারিশ দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সংসদ। বৃহস্পতিবার বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেদিন তিনি সরকারি দলের পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করেন। পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করেন।

Share