জুলাই নিয়ে কটূক্তি করা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না: তথ্য উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবর থেকে শুরু


গাজী আবু বকর : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘জুলাই নিয়ে কটূক্তি করা, মন্তব্য করা অত্যন্ত মর্মান্তিক হলেও এটি ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। তবে এসব মন্তব্য ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে গণ্য করা হবে কিনা সেই আলোচনা চলতে পারে।’ এপ্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও আত্মত্যাগকে জাতীয়ভাবে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। জুলাইকে শুধু একটি স্মরণীয় মাস হিসেবে নয়, বরং জাতীয় মননে স্থায়ীভাবে জাগিয়ে রাখতে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।”

আজ মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সচিবালয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করে জানান, আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে এবং আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন শেষ হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
ব্রিফিংয়ে জুলাই-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে উপদেষ্টা ডা. জাহেদ জানান, ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আগামী ১৬ জুলাই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। ওইদিন সকালে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। পাশাপাশি রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সড়কে আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ১৬ জুলাই ছিল গণঅভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের দিন। ওইদিন প্রথম আবু সাইদসহ ৬ জন প্রাণ হারানোর পর আন্দোলন নতুন গতি পায় এবং পরে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। যারা জীবন দিয়েছেন, জাতি তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না। তাদের প্রতি রাষ্ট্রের ঋণ রয়েছে।
এসময় জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই নিয়ে কটূক্তি করা, মন্তব্য করা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে আইনি কাঠামো অনুযায়ী এটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। এসব মন্তব্য ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে গণ্য করা হবে কিনা সেই আলোচনা চলতে পারে।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ও জুলাইকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। পর্যায়ক্রমে এসব কর্মসূচির বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, বিচারে যদি দেখা যায়, তাঁদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, তাহলে তাঁরা কর্মকাণ্ড করতে পারবেন। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার বলে তিনি উল্লেখ করেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মিছিল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে উপদেষ্টা রাষ্ট্রের আইন মেনে চলার জন্য তাঁদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তাঁদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আছে। তাঁরা একটু অপেক্ষা করুন। আদালতে যাবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে জানানো হয়েছে তদন্ত চলছে, সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিচারে যদি দেখা যায়, তাঁদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। আবারও বলছি, এটা আদালতের এখতিয়ার। তিনি সব পক্ষকে শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন। তাহলে তাঁরা কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।’
ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সরকার চায় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রম ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছাক। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় মূলধারার গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এসময় অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিল নিয়ে তিনি বলেন, গত জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিল আসার ব্যাপারে জনগণের অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে খাদ্য চাষ এবং সংরক্ষণ পর্যায়ে খাদ্যপণ্যে অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দেশের খাদ্য ব্যবসায়ীদের ডাটা সংগ্রহ করে একটি তথ্য ভান্ডার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সচেতন করার পাশাপাশি, অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানান উপদেষ্টা। এ বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্য ও অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ বলে মনে করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা নির্বাচন কমিশনের সূত্রের বরাত দিয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক পথরেখা প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য পৃথক রোডম্যাপ করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে এগুলো চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা যেতে পারে। আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর নির্বাচন শুরু হওয়ার পর ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

Share