হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ৮০০ ছাড়াল

নয়াবার্তা প্রতিবেদক : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১২৯ দিনে হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু দাঁড়াল ৮০৩ জনে। নিহতদের প্রায় সবাই শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে গতকাল বুধবার সকাল আটটার মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে এই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুদের চারজনই ঢাকা বিভাগের। দুজন সিলেট বিভাগে মারা গেছে।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর তথ্য দিয়ে আসছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ৩৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বোচ্চ মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ। এই বিভাগে ১০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এখন পর্যন্ত। তা ছাড়া এই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ৯২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৬২ জন, খুলনা বিভাগে ৩১ জন এবং রংপুর বিভাগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, হাম–রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছর তারা আট বিভাগে ১০৩ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় এনেছে। অর্থাৎ টিকা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৫টি ডোজ।

জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে অনেক কাজ করেছে। কিন্তু ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া ছাড়া হাম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তবে এই কাজ সরকারের পক্ষে করা সম্ভব। বিশেষ করে দ্বিতীয় ডোজের টিকার ক্ষেত্রে এই কাজটা করতে হবে।

শহর ও গ্রামের প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুরা টিকা পেয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে উল্লেখ করে মুশতাক হোসেন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে কাজ না করলে হাম কমানো যাবে না।

মুশতাক হোসেন বলেন, প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের জ্বর হলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হবে। সেখানে তাদের ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে হবে। ডেঙ্গু না হলে তাদের হাম সন্দেহ করে হাসপাতালে রেখে দিতে হবে। চার দিন পর যদি দেখা যায় হাম নেই, তাহলে বাসায় চলে যাবে। তা ছাড়া হাসপাতালে দুর্বল শিশুরা যত্ন, খাবার, চিকিৎসা পাবে। এটা করা গেলে হামে মৃত্যু কমানো সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ৪১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে কিংবা এই রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১২৯ দিনে ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৩ জনের শরীরে হাম বা হামের উপসর্গ শনাক্ত হলো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে গত মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম কিংবা হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এ সময়ে এত রোগী আর কোনো দেশে পাওয়া যায়নি।

সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানে একসময় বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বজুড়ে ছিল আলোচিত। নিয়মিত টিকাদান, জাতীয় ক্যাম্পেইনের কারণে হামসহ এ ধরনের রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব এড়ানো যাচ্ছিল। এখন সংকট দেখা দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টিকাদানের ঘাটতিকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share