
নয়াবার্তা প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র আইনগত বাধার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রিট খারিজের পর বুধবার (১৯ আগস্ট) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে মঙ্গলবার ও বুধবার দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সবশেষ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের ভোটার হওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদন দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইফুল আলম ফুয়াদ।
যিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসন থেকে প্রার্থী ছিলেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দের করা রিট খারিজ করে আদেশ দেন। গত বৃহস্পতিবার রিটটি করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। তবে এ কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অযোগ্য হবেন না।
রিটকারী আইনজীবী বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। এতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হচ্ছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি শূন্য থাকায় ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ব্যালট পেপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দেবেন।
তিনি জানান, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটগ্রহণ শেষে সেখানেই ভোট গণনা করা হবে। পরে ফলাফল ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
ইসি সচিব আরও জানান, ভোটগ্রহণের শুরুতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। মোট ৩৪৯টি ব্যালটের মধ্যে কতটি বৈধভাবে জমা পড়েছে এবং প্রার্থীরা কত ভোট পেয়েছেন, তা গণনার পর নির্বাচনি কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ফলাফল ঘোষণা করবেন। গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
