প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন ফ্যাসিবাদী শাসনামলে: আইনমন্ত্রী

নাগরিক-অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

নয়াবার্তা প্রতিবেদক : আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয় মিলিয়নের বেশি মানুষ। এসব মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছে।

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এ দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ভিন্নমতাবলম্বী বা রাজনৈতিক কর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।

বর্তমান সরকারের সময়ের প্রসঙ্গ তুলে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স দেখিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে—এমন কোনো অভিযোগও তারা পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন।

নাগরিক-অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: আজ ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া শক্তিশালীকরণ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন মন্ত্রী বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকার নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেল আয়োজিত এ সভায় আইনমন্ত্রী বলেন, মানব পাচার হলো সবচেয়ে গুরুতর, অমানবিক এবং নিষ্ঠুর কাজগুলোর একটি। এই প্রক্রিয়ায় ঠগ, অপরাধী ও মাফিয়ারা অর্থ আদায় করে। তারা এ দেশের জীবনের বিনিময়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। সরকার এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মানব পাচার রোধে বেশ কিছু আইন সংশোধন করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা বেশ কিছু আইন সংশোধন করেছি। আমরা মানব পাচারের সংজ্ঞাকে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত করেছি, যা মানব পাচারের বিস্তৃত পরিসরে প্রয়োগ করা যেতে পারে। ২০২৬ সালের মানব পাচার আইনের অধীনে আমরা এই ধরনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমরা ১৮৮৭ সালের জুয়া আইন সংশোধন করেছি। অনলাইন জুয়া, পাচার এবং এ জাতীয় অবৈধ কার্যক্রমকে আমাদের আইনি কাঠামোর আওতায় এনেছি। এছাড়া আরও কিছু আইন প্রবর্তন করেছি, যা মানব পাচারের দিকটিও কভার করতে পারে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে মানব পাচার বিষয়ক প্রোটোকল অনুসমর্থন করেছে। আর তখন থেকেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

এক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ সতর্ক। কিন্তু তাদের জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, অভিযোগকারীদের কাছ থেকে যথাযথ সহায়তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, উপযুক্ত প্রমাণ ও অন্যান্য বিষয়াদি পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

মানব পাচার আগের মতো ব্যাপক নেই উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, মানব পাচার এখন আর আগের মতো এতটা ব্যাপক নেই। আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, আমাদের দেশে বেকারত্বের সংকট রয়েছে। আমরা মানুষকে জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাওয়া থেকে আটকাতে পারি না।

ট্যুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করে বিদেশে গিয়ে অনেকেই সেখানে অবৈধ অভিবাসী হয়ে যায় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমরা আপনাদের সহায়তাও চাইছি, কীভাবে আমরা বিদেশে যাওয়া অভিবাসী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে পারি।

নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে আমাদের নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের কিছু ঘাটতি থাকতে পারে, তবে আমরা আপনাদের যেকোনো ভালো সুপারিশকে স্বাগত জানাই।

আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসের সভাপতিত্বে আজকের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে।

Share