
বিশেষ প্রতিবেদক : গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত রাজধানীতে আরেকটি মেট্রোরেল নির্মাণের প্রকল্প পাস করা হয়েছে। নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এটি হলো ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫), সাউদার্ন রুট। আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্প পাস করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) একনেক নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
আজকের একনেক সভায় আরও দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের খরচ বাড়ানো হয়েছে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। এই দুটি প্রকল্পে দ্বিতীয়বারের মতো খরচ বাড়িয়ে সংশোধন করা হলো। এখন ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের লাইন-৫-এর নর্দান রুটের খরচ দাঁড়াল ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন–১) ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) বলেন, জাইকার ঋণের সুদের পরিমাণ এই মাস পরে ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তাই জাপানের ঋণের মেট্রোর দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কারণ, আরও ৬ মাস গেলে সুদের হার সাড়ে ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মেট্রোর খরচ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিজেরা মেট্রো তৈরি করার সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি। জাপান এই ব্যয়ের কমে তৈরি করতে পারবে না। কারিগরি কমিটি এই ব্যয় খতিয়ে দেখেছে।
কত টাকার প্রকল্প পাস
আজকের একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।
সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পের মধ্যে আছে, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন; নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুর রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু; বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ; বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন ও খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসনসহ অবকাঠামো নির্মাণ; খুলনা পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন; বস্ত্র ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়ন; মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের প্রকল্প।
