
গাজী আবু বকর: প্রবাসী বাংলাদেশীরা গত অক্টোবর মাসে বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে ২৮৭ কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার অর্থাৎ ২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ধরে প্রায় ৩৫ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা। আজ ১ নভেম্বর রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।
এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই (১ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত) রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এই চার মাসে মোট ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। আগের অর্থবছরের (২০২৫-২৬) একই সময়ে (১ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত) রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ১৪ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
প্রবাসী আয় সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া তৈরি হয়েছে। এছাড়া খোলা বাজারের পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলেও ডলারের সুবিধাজনক বিনিময় হার পাওয়ায় ব্যাংকিং মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসার হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রবাসীদের পাঠানো এই প্রবাসী আয়ের ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে এবং সার্বিক অর্থনীতিতে গতিশীলতা নিশ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, প্রবাসী আয় হলো দেশে ডলার জোগানের একমাত্র দায়বিহীন উৎস। কারণ, এই আয়ের বিপরীতে কোনো বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয় না বা কোনো দায়ও পরিশোধ করার দরকার পড়ে না। অন্যদিকে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে দেশে ডলার এলেও তার জন্য কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি করতে আবার বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয়। আবার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতেও ডলারের প্রয়োজন হয়। ফলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলারের রিজার্ভ বা মজুত দ্রুত বৃদ্ধি পায়। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোয় ডলারের যে সংকট চলছিল, তা অনেকটা কেটে গেছে বলে জানান কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, ডলারের দাম নিয়ে যে অস্থিরতা ছিল, তা-ও কিছুটা কমে এসেছে। ব্যাংকগুলো এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ ১২৩ টাকার মধ্যেই প্রবাসী আয় কিনছে।
