আমেরিকা বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নয়াবার্তা প্রতিবেদক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায় আমেরিকা। এ নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আলোচনা হয়েছে। অত্যন্ত শক্ত ভিত্তির ওপর যেন বাংলাদেশ ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও ৫০ বছর পরও সুদৃঢ় থাকে তার জন্যই উভয় দেশ কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। এখানে র‍্যাবের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিতান্তই ছোট একটি বিষয়। আমেরিকার কাছে রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। এসব নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমেরিকার প্রতিনিধি দলের আলোচনা হয়েছে।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা সেবা নিশ্চিত করে আমাদের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আর স্মার্ট কৃষিবিদ গড়ার মাধ্যমেই আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পারব। কারণ কৃষিবিদরা সর্বক্ষেত্রে তাদের মেধা সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা সামছুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরীন ও সহকারী অধ্যাপক ড. পার্থ প্রতিম বর্মণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভূঞা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবির। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খান, রেজিস্ট্রার মো. বদরুল ইসলাম, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শরিফুন্নেছা মুনমুন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিকৃবি শাখার সভাপতি আশিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. এমদাদুল হক। নবাগত শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করেন ইসাবা মেহেজাবিন ও মনোয়ার মাহাতাব।

ড. মোমেন বলেন, কৃষিক্ষেত্রে দেশে বৈপ্লবিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, যার কৃতিত্ব কৃষিবিদদের। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের রোল মডেল। ২০৩০ সালে বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বে এবং কৃষিবিদদের কল্যাণে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদিত হওয়ায় প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের খাদ্য আমদানি করতে হয় না। যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগী হয়ে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় সিলেট অঞ্চলের অনাবাদি জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে আন্তর্জাতিকমানের কৃষিবিদ তৈরি করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভূঞা নির্মিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক অডিটরিয়ামটির নাম সিলেটের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও সাবেক প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মোহিতের নামে নামকরণ করা হবে বলে ঘোষণা করেন।

এ ছাড়া উপাচার্য নতুন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই ক্যাম্পাসে মাদক, র‌্যাগিং ও যে কোনো প্রকারের যৌন নিপীড়ন নিষিদ্ধ। এসব বিষয়ে যে কোনো অভিযোগ পাওয়া মাত্রই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণে স্থাপিত মঞ্চে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংঘ, লুব্ধক থিয়েটার ও মেট্রোনোম মিউজিক্যাল ক্লাব।

Share