এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব জেলা প্রতিবেদক : সিলেটে ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন।

শুক্রবার রাতে মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় এই মামলা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মামলায় সরাসরি জড়িত ছয় জন ও সহযোগী হিসেবে আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা এম সাইফুর রহমান, ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাছুম। অভিযুক্ত তারেক ও রবিউল বহিরাগত হলেও বাকি চারজন এমসি কলেজের শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমসি কলেজ ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এদের সবাই নগরীর টিলাগড় কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের সক্রিয় কর্মী। সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা যুবলীগ পরিচয়ধারী এক নেতা তাদের মদদ দেন। এই নেতার মদদে তারা করোনাকালীন সময়ে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে রাতে মদ ও জুয়ার আসর বসিয়ে আসছিল।

আসামিদের মধ্যে সাইফুর রহমানের বাড়ি বালাগঞ্জে, রনির বাড়ি হবিগঞ্জে, তারেকের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে, অর্জুনের বাড়ি জকিগঞ্জে, রবিউলের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই ও মাছুমের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলায়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় নববিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার এক বাসিন্দা। সেখানে যাওয়ার পর অভিযুক্তরা তাদের জোর করে কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে আসে। এ সময় স্বামীকে আটকে স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। খবর পেয়ে শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে শাহপরাণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে। ধর্ষণের শিকার নারীকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মারধরের শিকার স্বামীও চিকিৎসা নিয়েছেন।

Share