কণ্ঠশিল্পী আগুনকে দেখার শেষ ইচ্ছা পূরণ হলো না বৃদ্ধার

নয়াবার্তা প্রতিবেদক : বৃদ্ধা রিজিয়া বেগমের শেষ ইচ্ছা ছিল কণ্ঠশিল্পী আগুনকে একনজর দেখার। তিনি একসময় আগুনের বাবা মৃত খান আতাউর রহমানের বাসার গৃহপরিচারিকা ছিলেন। শিশু বয়সে আগুনকে তিনি কোলে করে নিয়ে বেড়িয়েছেন। সেই আগুন এখন কত বড়, সেটাই ছিল তাঁর জিজ্ঞাসা।
বৃদ্ধার এই শেষ ইচ্ছা পূরণে চেষ্টা চলেছে, কিন্তু তা পূরণের আগেই সোমবার দুপুরে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃতদেহ মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার পলাশগাছা গ্রামে এক পালিত মেয়ের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম (৭৫) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ওই পাড়ায় একটি ঝুপড়ি ভাড়া নিয়ে একাই থাকতেন। সারা দিন বাইরে ভিক্ষাবৃত্তি করে ভাড়া ঘরে এসে ঘুমিয়ে থাকতেন। পাড়ার বাসিন্দারা জানান, ‘তিনি মানুষের সঙ্গে গল্প করতেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর চলচিত্র পরিচালক খান আতাউর রহমানের ঢাকার বাসায় কাজ করেছেন। সেই সময়ে তাঁর ছেলে আগুন খুব ছোট ছিল। তিনি তাঁকে কোলে নিয়ে বেড়িয়েছেন। ওই পাড়ার এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে জানার পর বৃদ্ধার শেষ ইচ্ছা পূরণে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল আগুন এখন কত বড় হয়েছে তা দেখার। একনজর আগুনকে দেখে মরতে চেয়েছিলেন তিনি।’

বৃদ্ধার পালিত কন্যা মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার পলাশগাছা গ্রামের মকলেচুর রহমানের স্ত্রী মনিরা বেগম জানান, তাঁর মা ভারতের বাসিন্দা। দেশ ভাগের পূর্বে তাঁদের গ্রামের জয়নদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা সংসার করেছেন, কিন্তু তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। তাঁর স্বামী স্বাধীনতার পর মারা যান। তাঁর মা ঢাকায় অন্যের বাড়িতে কাজ করে বেচেঁ ছিলেন। মায়ের কাছ থেকে শুনেছেন খান আতাউর রহমানের বাসায় কাজ করতেন। ১৭ বছর কাজ করার পর সেখান থেকে চলে আসেন।

মাত্র দুই বছর হলো তাঁর এক আত্মীয়ের মাধ্যমে কালীগঞ্জে ছিলেন। তিনি মাগুরায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও যেতে চাননি। তাঁর শরীরের অবস্থা খারাপ শুনে শনিবার মাগুরায় নিয়ে যান। তাঁর অবস্থা খারাপ হলে রাতেই ফরিদপুর মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করেন। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মনিরা বেগম আরও জানান, মা প্রায়ই দুঃখ করে বলতেন, আগুনকে খুব দেখতে ইচ্ছা করে। আগুন কত বড় হয়েছে, সেটা জানার আগ্রহ ছিল প্রচুর। কিন্তু তাঁরা কোনো মাধ্যম পাননি। শেষে সংবাদপত্রের মানুষ এগিয়ে এসেছেন কিন্তু তাঁদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মা না–ফেরার দেশে চলে গেছেন।

বিষয়টি কণ্ঠশিল্পী আগুনকে অবহিত করলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বৃদ্ধা বেঁচে থাকলে যোগাযোগ করা সম্ভব ছিল, এখন তো আর হলো না। তাঁকে দেখার আকুতির বিষয়টি শুনে তিনি ব্যথিত হয়েছেন।