করোনা শনাক্ত সাড়ে ৯ হাজার, শনাক্তের হার ২৫ ছাড়াল

নয়াবার্তা প্রতিবেদক : দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছেই। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজারে পৌঁছেছে। এ সময় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ২৫ ছাড়িয়ে গেছে। এক দিনের ব্যবধানে নতুন রোগী বেড়েছে ১ হাজার ৯৩ জন।

আজ বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশে করোনা সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে মোট ৩৭ হাজার ৮৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ১১। আগের দিন এ হার ছিল ২৩ দশমিক ৯৮।

করোনার নতুন ধরন অমিক্রন দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। করোনার এই ধরন অতিসংক্রামক। কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার বাড়ছে। দেশে আগের সপ্তাহের তুলনায় গত এক সপ্তাহে (১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি) করোনা রোগী বেড়েছে ২২৮ শতাংশ।

এমন পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে গত বছরের মাঝামাঝি দেশে করোনায় মৃত্যু, রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার বেড়েছিল। তবে আগস্টে দেশব্যাপী করোনার গণটিকা দেওয়ার পর সংক্রমণ কমতে থাকে।

গত মাসের শেষ দিকে আবার করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকে। গত ডিসেম্বরের প্রথম দিকেও দেশে করোনা শনাক্ত ১ শতাংশের ঘরেই ছিল। তবে গত মাসের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। গত মাসের শেষ দিকে যেখানে দৈনিক রোগী শনাক্ত ৫০০-এর ঘরে ছিল, সেখানে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে এ সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে যায় ১০ জানুয়ারি। তার চার দিনের মাথায় ১৪ জানুয়ারি দৈনিক রোগী শনাক্ত ৪ হাজার ছাড়ানোর তথ্য আসে। এরপর এক সপ্তাহ না হতেই দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়ে গেল।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান-সমাবেশ বন্ধসহ ১১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা না মানলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া ১২ জনের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। তাঁদের মধ্যে আটজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। চট্টগ্রামে দুজন এবং রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। আটজনের মৃত্যু হয়েছে সরকারি হাসপাতালে, তিনজনের বেসরকারি হাসপাতালে এবং একজনের বাসায়।

২০২০ সালের মার্চে বাংলাদেশে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৪২ হাজার ২৯৪ জন। সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৭৬ জনের। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৬৮ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৩ জন সুস্থ হয়েছেন।