তালেবান সরকার পুড়িয়ে দিল বাদ্যযন্ত্র

নয়াবার্তা ডেস্ক : ‘সঙ্গীত নৈতিক দুর্নীতির কারণ’। এই দাবি তুলে তালেবানরা আফগানিস্তানে বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে দিয়েছে। পশ্চিম হেরাত প্রদেশে হাজার হাজার ডলার মূল্যের বাদ্যযন্ত্রে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে, তালেবানরা জনসমক্ষে গান বাজানো বন্ধসহ অনেক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আফগানিস্তান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মিউজিকের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ সারমাস্ত তালেবানদের কর্মকাণ্ডকে “সাংস্কৃতিক গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

ড. সারমাস্ত যিনি এখন পর্তুগালে বসবাস করছেন, বিবিসিকে বলেছেন, ”আফগানিস্তানের জনগণকে শৈল্পিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে… হেরাতে বাদ্যযন্ত্র পোড়ানো তালেবানের নেতৃত্বে আফগানিস্তানে সংঘটিত সাংস্কৃতিক গণহত্যার একটি ছোট উদাহরণ মাত্র।”

হেরাতে আগুনে পুড়ে যাওয়া কিছু জিনিসের মধ্যে রয়েছে একটি গিটার, একটি হারমোনিয়াম, একটি তবলা, এক ধরনের ড্রাম-সেইসাথে অ্যামপ্লিফায়ার এবং স্পিকার । এর মধ্যে অনেকগুলো শহরের বিয়ের স্থান থেকে জব্দ করা হয়েছে। তালেবানের ভাইস অ্যান্ড ভার্চু মন্ত্রকের একজন আধিকারিক বলেছেন যে, সংগীত তরুণদের বিপথে নিয়ে যাবে । ১৯ জুলাই তালেবানরা অনুরূপভাবে বাদ্যযন্ত্র নষ্ট করে দিয়েছিলো।

সেই সময়ে টুইটারে অগ্নিকাণ্ডের ছবি ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু দেশের কোন অংশে এটি ঘটেছে তা জানা যায়নি । আফগানিস্তানে ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানরা ক্ষমতায় থাকার সময় সামাজিক সমাবেশ, টিভি এবং রেডিও থেকে সব ধরনের সঙ্গীত নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২১ সালে তালেবানরা ক্ষমতায় ফিরে আসার পর অনেক সঙ্গীতশিল্পী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান ।

দেশে এখনও সঙ্গীতশিল্পীরা মারধর ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

গত দুই বছরে, তালেবানরা ইসলামিক আইনের কঠোর ব্যাখ্যার অধীনে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নারীরা এসব কঠোর পদক্ষেপের খেসারত বহন করছেন। তালেবানরা আদেশ দিয়েছে যে নারীদের এমনভাবে পোশাক পরতে হবে যাতে কেবল তাদের চোখ দুটো দেখা যায়। যদি তারা ৭২ কিলোমিটারের বেশি ভ্রমণ করে তবে তাদের সাথে অবশ্যই একজন পুরুষ আত্মীয় থাকতে হবে। তরুণীদের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম, জিম এবং পার্কগুলিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে । গত সপ্তাহে তালেবানের নির্দেশে দেশজুড়ে সমস্ত হেয়ার এবং বিউটি সেলুনগুলিকে ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

Share