নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলা: আসামির তালিকায় সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ নাম

নয়াবার্তা প্রতিবেদক : ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা-ভাঙচুরের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১ নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছেন ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

ইসিবি চত্বর এলাকার নিউ গিনি প্রপার্টিজে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিও ছাড়াও আবাসন প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের স্থাপনায় হামলা হয়।

পুলিশ বলেছে, জমি নিয়ে একজন আবাসন নির্মাতা এবং এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরোধের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় করা মামলায় বাদী হয়েছেন নিউ গিনি প্রোপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, যেখানে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।

বাদীর অভিযোগ, জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে আসামিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকল্পে ঢুকে গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং প্রকৌশলী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করেন।

মামলায় এজাহারে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে বাদী প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় ১ নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদের ইন্ধন ও নির্দেশে অন্য আসামিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করেন। তাদের হাতে শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

“হামলাকারীরা প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ সময় প্রকল্পের শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। বাদীও নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন,” বলা হয় এজাহারে।

বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজকে মারধর করে জখম করেন। ২ নম্বর আসামি আবুল কাশেম রিভলবারের মাথা দিয়ে পারভেজের মাথায় আঘাত করেন। পারভেজকে রক্ষায় এগিয়ে এলে প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলামকেও মারধর করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, অন্য আসামিরা প্রকল্পের মূল ফটকে ১০ রাউন্ড গুলি করেন। এ সময় লোহার গেট, থাই গ্লাস ও কাচের গেট ভাঙচুর করা হয়। এরপর হামলাকারীরা প্রকল্পের অফিসকক্ষে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।

বাদীর অভিযোগ, অফিসকক্ষের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য রাখা ২৫ লাখ টাকা লুট করা হয়।

মামলার এজাহারে নাম থাকা বাকি আসামিরা হলেন— বাবুল হোসেন, মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান, মতিউর রহমান, মজিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, এমকে আজাদ, মামুন, আসলাম ও মুন্না।

এজাহারে শাহরিয়ার মাহমুদের বিষয়ে বলা হয়েছে, তার ইন্ধন ও নির্দেশে অন্য আসামিরা হামলা চালিয়েছেন।

শাহরিয়ার ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক।

তিনি বলেন, “আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।”

শাহরিয়ারের বিস্তারিত পরিচয় জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, “তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনই বিস্তারিত জানাতে চাইছি না।”

গ্রেপ্তার হওয়া বাকি তিন আসামি হলেন— মামুন, আসলাম ও মুন্না। মামুনের বাড়ি গফরগাঁও; তিনি ভাসানটেক বস্তিতে থাকেন। আসলামের বাড়ি টাঙ্গাইল; অটোরিকশা চালান। মুন্নাও ভাসানটেক বস্তিতে থাকেন।

Share