প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধিমান, সফরের সিদ্ধান্ত তার: ভারতীয় হাইকমিশনার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ আছে কি না প্রশ্নে ঢাকার হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে। তিনি অনেক বুদ্ধিমান মানুষ, জনগণের নেতা তিনি। সুতরাং আমি মনে করি, এটি প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। আর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের খাতিরে যা করা প্রয়োজন, আমার এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, উভয় পক্ষের অভিপ্রায় জনগণকেন্দ্রিক। যখন জনগণকেন্দ্রিক বিষয় হয়, তখন যা হওয়ার হবেই। আজ বুধবার জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ডেমোক্রেসিতে আলোচনার কোনও শেষ নাই। যদি আলোচনা শেষ হয়ে যায়, তাহলে ওটা ডেমোক্রেসি না। আলোচনা তো বহমান নদীর মতো। গঙ্গা-পদ্মা আছে, তার কোনও শেষ নাই, এটি বহমান থাকেই, কোথাও থমকে থাকে না। গঙ্গা-পদ্মা থমকে যাবে– এমন হতে পারে না। আলোচনা তেমনই নদীর স্রোতের মতো, সাগরের মতো, কোনোদিন থামবে না। আমি আশাবাদী, কনফিডেন্ট এইটাই হচ্ছে প্রসেস অব ডেমোক্রেসি, আর এই প্রসেসটা চিরকাল চলতেই থাকবে। এ সময় তিনি জানান, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আজ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পীকারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সংসদীয় কূটনীতি, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারসহ সংসদীয় কার্যক্রমের আধুনিকায়ন এবং পারষ্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে দীনেশ ত্রিবেদী লুই আই কানের চমৎকার স্থাপত্যশৈলী জাতীয় সংসদ ভবনের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশ অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারষ্পরিক স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ। বিদ্যমান সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে তিনি সংসদীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে পারষ্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, নিয়মিত মতবিনিময় ও দুই দেশের পার্লামেন্টের পারস্পরিক সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ভারতের পার্লামেন্টকে একটি আধুনিক পার্লামেন্ট আখ্যায়িত করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এর সফল বাস্তবায়নে তিনি ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি দীনেশ ত্রিবেদীর মতন একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে পাওয়াকে এক্ষেত্রে একটি দারুণ সুযোগ বলে উল্লেখ করেন। দুই দেশের মধ্যকার সংসদীয় যোগাযোগে এবং বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থার আধুনিকায়নে দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে তিনি সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডেপুটি স্পীকার।

ডেপুটি স্পীকার বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সংসদীয় কূটনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হলে তা দুই দেশের জন্য চমৎকার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্লাটফরম হতে পারে।

জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো জোরদার, পারষ্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং পারষ্পরিক আস্থা, স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসের জায়গাকে আরো সুদৃঢ় করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয়পক্ষ।

সাক্ষাৎকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো: গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, বাংলাদেশে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Share