
নয়াবার্তা প্রতিবেদক : প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে বিশেষ ছাড় ও বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে গ্রহণ করেছে সরকার। একইসঙ্গে বিমানবন্দরে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চেক-ইন ও বোর্ডিং সুবিধা দেওয়া হবে।
আজ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘প্রবাসী কার্ড’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিমানবন্দর সম্পর্কিত সংস্থাগুলোর করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় সভাপতিত্বকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী ভাইদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে এবং বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারে বিশেষ ছাড় দেওয়ার একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
আফরোজা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিমান ভ্রমণ আরো সুবিধাজনক ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রবাসীদের জন্য হয়রানিমুক্ত বিমান ভ্রমণ সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
যাত্রীসেবার মান বাড়াতে ইতোমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের সুবিধার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শাটল বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রবাসী কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রবাসীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সরকার প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন পরিচালিত হোটেল ও মোটেলগুলোতে বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে।
তিনি আরো বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চেক-ইন ও বোর্ডিং সুবিধা চালু করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
সভায় জানানো হয়, বর্তমান সরকারের চালু করা প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে এই সকল বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে।
সভার শুরুতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রবাসী কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমানবন্দর সম্পর্কিত সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহযোগিতার রূপরেখা তুলে ধরেন।
প্রবাসী কার্ড উদ্যোগটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর লক্ষ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা প্রাপ্তি সহজ করা এবং তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
এছাড়াও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং তাদের অধীনস্থ দপ্তরসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
