ভোট চুরির অভিযোগ নেতানিয়াহুর, অচলাবস্থা ইসরায়েলে

নয়াবার্তা ডেস্ক: ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে কারচুপি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও নির্বাচনের সামগ্রিক ফল বাতিল হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।

গতকাল (১ নভেম্বর) এক ভিডিও বার্তায় নির্বাচন কমিশনের প্রধান নোয়াম সোলবার্গ বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপের সন্দেহ সত্য প্রমাণিত হলেও তা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া কিংবা ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে না। এ সময় তার সঙ্গে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ও অ্যাটর্নি জেনারেল উপস্থিত ছিলেন।

গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। দলটির অভিযোগ, কাতারের অর্থায়নে ভোটে প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচনী ফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছে আরব দলগুলো। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে কাতার একে অপতথ্য প্রচারের চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি। অন্যদিকে তিনটি আরব নেতৃত্বাধীন দল রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নির্বাচনের ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিকল্পিত প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী নেতা আইজেনকট। রোববার তিনি বলেন, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতেই সংগঠিতভাবে এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এদিকে ভোটের আগে নগদ অর্থসহ আটক তিন রাজনৈতিক কর্মীর মধ্যে দুজনকে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই অর্থ বহন করা হচ্ছিল বলে পুলিশের অভিযোগ। আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আট আসনে জয়ী আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম পার্টির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে দলটির নেতা মনসুর আব্বাস গ্রেপ্তারের ঘটনাকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা।

নির্বাচন-পরবর্তী অচলাবস্থা কাটাতে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইজেনকটের জোট তাদের সমর্থন পেলে পার্লামেন্টে ৬৭ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে। যদিও এর আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন তিনি।

চলতি সপ্তাহেই নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের কথা রয়েছে। এরপর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নতুন সরকার গঠনের জন্য একজন নেতাকে মনোনীত করবেন।

Share