যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণা

নয়াবার্তা ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি লেবার পার্টির নেতা হিসেবেও পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়ে স্টারমার তার বিবৃতি শুরু করেন সরকারের মেয়াদে নিজের রেকর্ড রক্ষার মাধ্যমে।

তিনি অর্থনীতি, মজুরি, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে লেবার পার্টির অর্জন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী এবং আমাদের সমকক্ষ দেশগুলোর তুলনায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিটি মাসেই মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার বেশি ছিল।
স্টারমার বলেন, আমরা বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছি, অবকাঠামো নির্মাণ করছি এবং কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের অবসান ঘটিয়েছি।

বিগত ১৭ বছরের মধ্যে এনএইচএস-এ অপেক্ষমাণ রোগীর তালিকা দ্রুত সময়ে কমিয়ে এনেছি এবং এক প্রজন্মের মধ্যে শ্রমিক ও ভাড়াটিয়াদের অধিকারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উন্নতি করেছি।

এসময় দলে নিজের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার দল বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি। প্রশ্নটি হলো, আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না।

স্টারমার জানান, তার দলের কাছ থেকে এই প্রশ্নের উত্তর তিনি ‘পেয়েছেন’ এবং সেই উত্তর তিনি ‘ভদ্রভাবে মেনে নিয়েছেন’।

পরে তিনি ঘোষণা দেন, আমি লেবার পার্টির নেতা হিসেবেও পদত্যাগ করব।

কিয়ার স্টারমার আরও জানান, আজ সকালে তিনি রাজা চার্লসের সঙ্গে কথা বলেছেন ও পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

তিনি লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে একটি সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন। এই সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্বের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হবে এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

এর ফলে সেপ্টেম্বর মাসে পুনরায় পার্লামেন্ট বসার আগেই লেবার পার্টি একজন নতুন নেতা পাবে।

স্টারমার আরও জানিয়েছেন, নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

নিজ দল লেবার পার্টির ভেতর থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়ে কিয়ার স্টারমার শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টানা কয়েক দিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিজের দলের এমপি ও মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে পদত্যাগের আহ্বানের পর অবশেষে তিনি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বিশাল জয় পেয়ে ক্ষমতায় আসা স্টারমার সরকারের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকট ও জনসেবা খাতের বেহাল দশা নিয়ে সরকারের ব্যর্থতা তাকে দলের ভেতর কোণঠাসা করে ফেলে। গত সপ্তাহে অ্যান্ডি বার্নহামের উপ-নির্বাচনে বড় জয়ের পর স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর চাপ চরমে পৌঁছায়।

সূত্র: বিবিসি ও আল জাজিরা

Share