হামের টিকায় গাফিলতি পেলে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা: -সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক : দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ ১৭ জুন বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে এর দায় এবং সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ, বিস্তার এবং টিকাদান কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন নীতিগত ও পরিচালনাগত বিষয়ের প্রভাব নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়। তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের ফলে টিকাদান কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় কারও অবহেলা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারেক রহমান জানান, ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে থাকে। সরকার হামের প্রাদুর্ভাব রোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়া রোগ নজরদারি কার্যক্রম সম্প্রসারণ, দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। দেশে হামের টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার আওতায় আনতে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম সারাদেশে অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Share