
চট্রগ্রাম প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে বছরের পর বছর ধরে বেদখল হয়ে আছে ১৫৮টি সরকারি পরিত্যক্ত বাড়ি। বেদখল এই বাড়িগুলো জায়গাসহ একেকটির মূল্য কোটি টাকার বেশি। এমনকি ১০ থেকে ২০ কোটি টাকার বাড়িও আছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যুগ যুগ ধরে সুকৌশলে এসব বেনামি সম্পত্তি ও পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করে রেখেছেন।
জানা গেছে, স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক বাড়ি-ঘর, কারখানা-প্রতিষ্ঠান ও স্থাবর সম্পত্তির মালিকদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানিদের সহযোগীরা এসব সম্পত্তি ফেলে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে গেছে। ফলে ১৯৭২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির এক আদেশে বেনামি এসব সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৫ সালে অধ্যাদেশ হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এরপর অনেক বেনামি সম্পত্তি ও বাড়ি দখল করে নেয় জালিয়াতচক্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে সরকারি সম্পত্তি দখলের সঙ্গে অনেক রাঘববোয়াল জড়িত। অস্তিত্বহীন মানুষের নামে পর্যন্ত বাড়ি দখলে রাখা হয়েছে। অনেকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের নামে বাড়ি দখল করে রেখেছেন। কেউ কেউ এসব বাড়ি ভাড়ায় খাটাচ্ছেন। বেশিরভাগ দখলদারই নানা কৌশলে মালিকানা দাবি করে বাড়িগুলো ছাড়ছে না। এসব বাড়ি দখলে রাখতে তারা জাল দলিলপত্র তৈরি করে আদালতে স্বত্ব ঘোষণার মামলা ঠুকে দিয়েছেন। মামলা থাকায় এসব বাড়ি সহজে উদ্ধার করতে পারছে না প্রশাসন। দখলদারদের উচ্ছেদ করতে গেলেই আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।
জানা গেছে, পরিত্যক্ত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের। এসব সম্পত্তির দুটি তালিকা রয়েছে। একটি ‘ক’, অপরটি ‘খ’। গেজেটভুক্ত যেসব পরিত্যক্ত সম্পক্তি উদ্ধার করা হয়, সেগুলোকে ‘ক’ তালিকাভুক্ত করা হয়। আর যেগুলো উদ্ধার করা হয়নি, সেগুলো হলো ‘খ’ তালিকাভুক্ত সম্পত্তি।
‘ক’ তালিকাভুক্ত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য সরকার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলে। চট্টগ্রামে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের আহ্বায়ক হলেন বিভাগীয় কমিশনার। আর সদস্য সচিব হলেন গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। আর ‘খ’ তালিকাভুক্ত বেদখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসনকে দায়িত্ব দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত পরিত্যক্ত সম্পত্তি সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছেও এসব সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়।
চট্টগ্রাম গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির অধীনে চট্টগ্রামে ৩১১টি পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে গত এক বছরে অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখল থেকে ৮টি বাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব পরিত্যক্ত বাড়ির মধ্যে সংরক্ষিত হলো ১৫১টি আর বিক্রয়যোগ্য হলো ১৬০টি। এসব বাড়ি সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি পরিত্যক্ত বাড়ি সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা নানা বাহানায় এসব বাড়ি গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেনি। ফলে এসব পরিত্যক্ত সম্পত্তি আবার বেদখল হয়ে গেছে। এসব বাড়ি কব্জায় রাখতে দখলদাররা আদালতে স্বত্ব ঘোষণার মামলা ঠুকে দিয়েছেন। একজন দখলদার একাধিক মামলা করেছেন। এসব বাড়ি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে ১৮০টি মামলা চলমান রয়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের পরিত্যক্ত সরকারি সম্পত্তি বোর্ডের সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলাম দেশ বর্তমানকে বলেন, ‘নানা আইনি জটিলতা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে বেদখল হওয়া সরকারি বাড়িগুলো উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যারা এসব সরকারি বাড়ি দখল করে রেখেছেন তারা অনেক প্রভাবশালী। তারা এসব বাড়ি দখলে রাখতে জাল দলিল তৈরি করে আদালতে একের পর এক মামলা করছেন। আমরা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এসব বাড়ি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি।’
‘খ’ তালিকাভুক্ত বেদখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধারের দায়িত্ব হলো জেলা প্রশাসনের। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কাছে বেদখলকৃত পরিত্যক্ত বাড়ির তালিকাও রয়েছে। কিন্তু এসব পরিত্যক্ত বাড়ি যুগ যুগ ধরে বেদখল হয়ে থাকলেও তা উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি জেলা প্রশাসন। কেবল পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের নির্দেশে ‘ক’ তালিকাভুক্ত বেদখল বাড়ি উদ্ধার করে দেয় জেলা প্রশাসন।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত সম্পত্তি উদ্ধারের বিষয়ে নিজের ভূমিকার কথা জানেন না জেলা প্রশাসনের সদ্য নিযুক্ত জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
দেশ বর্তমানকে তিনি বলেছেন, ‘আমি তো জানি, বেদখল পরিত্যক্ত সম্পত্তি উদ্ধারের দায়িত্ব পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের। আমি বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখবো।’
তবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব শাখা) নু-এমং মারমা মং দেশ বর্তমানকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে অনেক বেদখল পরিত্যক্ত সম্পত্তি রয়েছে, যা উদ্ধারের দায়িত্ব আমাদের। এসব সম্পত্তি কেন উদ্ধার করা হচ্ছে না সে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের এখতিয়ার।’
চট্টগ্রামে ১৫৮ পরিত্যক্ত বাড়ির একটি তালিকা দৈনিক দেশ বর্তমানের হাতে এসেছে। বেদখল হয়ে যাওয়া এসব পরিত্যক্ত বাড়ির মধ্যে নগরীর আকবর শাহ থানায় আছে ৪৭টি, খুলশী থানায় ৩৩টি, কোতোয়ালী থানায় ১৮টি, হালিশহর থানায় ১৫টি, বায়েজিদ থানায় ১৫টি, পাঁচলাইশ থানায় ৯টি, পাহাড়তলী থানায় ৬টি, ডবলমুরিং থানায় ৫টি, সদরঘাট থানায় ৩টি, চকবাজার থানায় ২টি, বাকলিয়া থানায় ১টি, সীতাকুণ্ড থানায় ৩টি এবং চন্দনাইশ থানায় ১টি।
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন সরদার বাহাদুর নগর এলাকার ২৩৩ নম্বর সরকারি পরিত্যক্ত বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে মৃত নবী হোসেনের পরিবার। ১০ শতক জায়গার ওপর নির্মিত বাড়িটির বর্তমান মূল্য কয়েক কোটি টাকা। আদালতে স্বত্ব ঘোষণার মামলা করে বছরের পর বছর বাড়িটি আঁকড়ে রেখেছেন তারা।
ওই বাড়িতে বসবাসকারী নবী হোসেনের ছেলে নুর হোসেন বলেন, ‘প্রায় দুই যুগ ধরে আমরা এই বাড়িতে বসবাস করছি। বিভিন্ন সময় গণপূর্তের পক্ষ থেকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু খরিদ সূত্রে এ বাড়ির মালিক আমার বাবা (নবী হোসেন)। বর্তমানে এ বাড়ি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তাই আমরা এখনো বসবাস করছি।’
আকবর শাহ থানায় ৪৭টি : নগরীতে সবচেয়ে বেশি পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে আকবর শাহ থানায়। সেখানে ৪৭টি পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে। এগুলো হলো-ফিরোজ শাহ হাউজিং এস্টেট এলাকার ২২ নম্বর প্লটটি জহির উদ্দিন ও সুরমা বেগম, ডব্লিউ/আই-১০ নম্বর প্লটটি আকরাম হোসেন, ডব্লিউ/সি-৬ নম্বর প্লটটি আবদুল মজিদ, ৪৩ নম্বর প্লটটি কাজী নিজামুল, ডব্লিউ/এ-২ নম্বর প্লটটি শহীদ উল্লাহ ভূঁইয়া, ডব্লিউ/আই-৭ ও ১৯ নম্বর প্লট দুটি প্রভাবশালীরা, ই/এস-৩ নম্বর প্লটটি মো. ছাব্বির, ই/কিউ-১ প্লটটি ফরিদা বেগম, ই/এস-৫ প্লটটি রহমান খান ও ইকবাল হোসেন, ই/ জেড-৪ প্লটটি মোজাফর হোসেন ও এ.বি তহীদ, ই/১/সি-৫ প্লটটি মো. সৈয়দ, ই/১/এ-১০ প্লটটি আলী চৌধুরী, ডব্লিউ/বি-১১ প্লটটি নাজমা খাতুন, ডব্লিউ/এ-১ প্লটটি মিউনিসিপাল অফিস, ডব্লিউ/সি-১১ প্লটটি প্রভাবশালীরা, ই/ই-১ প্লটটি গোলাম ফাতেমা, ই/জি-১৩ প্লটটি আবদুল কাদের, ই/জে-৪ প্লটটি পিয়ারা বেগম ও মো. ইসরাফীল, ই/কে-১৩ প্লটটি তাহেরা বেগম, ই/ও-৪ আবদুল হক ভুঁইঞা, ই/পি-৩ প্লটটি মজিবুল হক ও সাইফুল আলম অবৈধভাবে দখল করেছেন।
ফিরোজ শাহ হাউজিং এলাকার ১১ নম্বর প্লট সাহাব উদ্দিন, ১২ নম্বর প্লটটি আবদুল হালীম, ২৮ নম্বর প্লট দেলোয়ার হোসেন, ৩১ নম্বর প্লট মো. ইসহাক, ৩৪ নম্বর প্লট মো. ইলিয়াস, ৩৫ নম্বর প্লট হাজী মো. বাদশা মিয়া, ৩৬ নম্বর প্লট নাননু মিয়া ও এসএম পারভেজ, ৩৯ নম্বর প্লট সাদাকাত হোসেন, ৪৬ নম্বর প্লটের অর্ধেক মো. মতিয়ার রহমান ও আবদুল জলিল, ই/এ-৮ নম্বর প্লট মো. আবুল হোসেন, ই/ই-৬ নম্বর প্লট আছমা বেগম, ই/এইচ-১১ নম্বর প্লট শাখাওয়াত হোসেন ও মোবাশ্বেরা বেগম, ই/এইচ-১৫ নম্বর প্লট আয়শা খাতুন, ই/আই-৪ নম্বর প্লট আম্বিয়া খাতুন, ই/সি-১/১ নম্বর প্লট মোশারফ হোসেন, ডব্লিউ/এ-৪ নম্বর প্লট মো. নুরনবী, ডব্লিউ/কে-৭ নম্বর প্লট মোখলেছুর রহমান, ডব্লিউ এফ-১ নম্বর প্লট এসএম টি. উদ্দিন ও বাবুল চৌধুরী অবৈধভাবে দখল করে আছেন।
পূর্ব ফিরোজশাহ কলোনি এলাকার ১ নম্বর প্লট মরহুম আবুল হাছান চৌধুরীর পরিবার, ৩ ও ৪ নম্বর প্লট দুটি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান, ই/পি-১০ নম্বর প্লট ছালমা খাতুন দখল করে আছেন। পশ্চিম ফিরোজ শাহ কলোনীর ডব্লিউ/এইচ-১২ নম্বর প্লটটি মাজহারুল ইসলাম, ডব্লিউ/ডি-১ নম্বর প্লটটি সুফিয়ান হক, ডব্লিউ/এল-১ নম্বর প্লটটি এ কেএম জাহাঙ্গীর অবৈধভাবে দখল করেছেন।
খুুলশী থানায় ৩৩টি : নগরীর খুলশী থানায় ৩৩টি পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে। এগুলো হলো-সরদার বাহাদুর নগর এলাকার ২০৬/২১৬ নম্বর বাড়িটি সৈয়দ আলমাস মিয়া ও আবদুল হাই, ১৯০/১৯৯ নম্বর বাড়িটি মৃত মো. সৈয়দের পরিবার, ১১২/এ নম্বর বাড়িটি তানভীরসহ আরো কয়েকজন, ১১৫/এ নম্বর বাড়িটি বেগম সামসুন নাহার, ১৫১ নম্বর বাড়িটি এ কে এম শরিফুল হায়দার, ১৪৩/এ/১৫১ নম্বর বাড়িটি আবদুর রশিদ হোসেন ও ১৪৭ নম্বর বাড়িটি দখলে করেছেন মো. সালেকুজ্জামান। নয়াশহর খুলশী কলোনির ৭০ নম্বর বাড়িটি আবদুল সালাম, ২৪৫ নম্বর বাড়িটি খোরশেদ আলম, ৬৩ নম্বর বাড়ির একাংশ শাহীন আক্তার ও ৬৭ নম্বর বাড়িটির একাংশ মো. কবির অবৈধভাবে দখল করে আছেন। সরদার বাহাদুর নগর এলাকায় ১৪৩ নম্বর বাড়িটি আলী আহাম্মদ আজাদ, ১৫৯/১৬১ বাড়িটি নুর আহম্মদ চৌধুরী, ১৭৪/১৭৯ বাড়িটি এবিএম আনোয়ার ও আজগর কাউয়াল, ১৭৬/১৮২ বাড়িটি আবদুল মতিন, ১৮৪/১৯২ বাড়িটি মো. ইব্রাহীম, ১৮৫/এ বাড়িটি মো. নোমান, ১৫৩/এ বাড়িটি মিজানুর রহমান, ২১৬/২২৫ এবং ২১৮/২২৭ বাড়ি দুটি শাহাদাত হোসেন, শরাফত হোসেন ও মঈনুল হোসেন, ২১৭/২২৬ বাড়িটির একাংশ মো. আমিনুল হক, ২৩৩ বাড়িটি নবী হোসেন, এবং ১৪১ বাড়িটি অশোক হোসেন অবৈধভাবে দখল করে আছেন। মোমিনাবাদের ১১/সি প্লট হামিদা বানু ও সৈয়দ শাহাজাহান দখল করেছেন। বাঘগোনা ৭৩৭০ নম্বর বাড়িটি এক জনৈক ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন। সামসী কলোনির ২৩২ নম্বর বাড়িটি অদু মিয়া ও আফছার উদ্দিন, ১৯৯/২৩২ নম্বর বাড়িটি বেলায়েত হোসেন ও ২৩১ নম্বর বাড়িটি অবৈধভাবে দখল করেছেন জলসা ক্লাবের নামে এক কাস্টম কর্মকর্তা ও বাগদাদ ফার্নিচার নামীয় একটি প্রতিষ্ঠান। মতিঝর্ণা এলাকার ৯০৬ নম্বর প্লটটি নুরুল ইসলাম, ৩৪৭ নম্বর প্লটটি ছালমা খাতুন ও ১৬১ নম্বর বাড়িটি দখল করেছেন মৃত সহকারী কমিশনার ওমরের পরিবার। চানমারী রোড়ের ২২০ নম্বর বাড়িটি অবৈধভাবে দখল করেছেন পুলিশের সাবেক ওসি মৃত আবদুল মালেক সরদারের পরিবার। সামসী কলোনির ২৩৬ নম্বর বাড়িটি অবৈধভাবে দখল করে আছে শামছুল আলমের পরিবার।
কোতোয়ালী থানায় ১৮টি : নগরীর কোতোয়ালী থানায় পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে ১৮টি। এগুলো হলো-জামালখান লেনের ১০১ নম্বর বাড়িটির একাংশ মো. শরীফ ও ডা. রিজিয়া বেগম, ১৯ ও ৪৯/৬১ নম্বর বাড়িটি সামছুন নাহার ও সোহরাব, ২৮২ নম্বর বাড়িটি আবুল কাশেম চৌধুরী ও ৯৬/১১৬ নম্বর বাড়িটি অবৈধভাবে দখল করেছেন কর্ণফুলী পেপার মিলের অবসরপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক কাজী রেজাউল করিম। কোরবানীগঞ্জের ১৯৩ নম্বর বাড়িটি হোসনেয়ারা বেগম দখল করেছেন। হাজারী লেনের ৯৩/৯৯ নম্বর বাড়িটি নুরুল হক, হরিশংকর, সুনীল বিশ্বাস ও মফজুন রহমান, ৯৮/১১১ নম্বর বাড়িটি সাবিয়া খাতুন দখল করেছেন। হেমসেন লেনের ১০১ নম্বর বাড়িটিও বিভিন্ন ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন। রাজা পুকুর লেনের ৩৮২/৪৩৩ নম্বর বাড়ি দখল করেছেন বিভিন্ন ব্যক্তি। এনায়েত বাজারের ৬০৬ ও ৬৪৮ নম্বর বাড়ি দখল করেছেন মাইনুল হক ও এস এম রহমান। ঘাটফরহাদবেগ এলাকার ৩৪৮/৩৯১ বাড়িটি যদুনাথ চক্রবর্তী, ৩৬৩ নম্বর বাড়িটি ১০ জন ব্যক্তি, ৩৬৪ নম্বর বাড়িটি হাজী আবদুল কাদের দখল করেছেন। এনায়েত বাজারের জে সি গুহ রোডের ১০২/১২২ ও ১০৪/১১৫ নম্বর বাড়ির একাংশ বিভিন্ন ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন। খাতুনগঞ্জের ৩৮৩ নম্বর বাড়িটি দখলে রেখেছেন মনজুরুল আলম পারভেজ। পাথরঘাটা মিরিন্ডা লেনের ২৩ নম্বর বাড়িটি দখল করে আছেন জয়নাল আবেদিনের পরিবার।
হালিশহর থানায় ১৫টি : নগরীর হালিশহর থানায় পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে ১৫টি। এগুলো হলো-হালিশহর হাউজিং এস্টেটের ২ নম্বর রোডের বি ব্লকের লেন-৭ এর ১ নম্বর বাড়ি, ৩ নম্বর রোডের বি-লেন-২ এর ৩৪ নম্বর বাড়ি ও ১ নম্বর রোডের আই ব্লকের লেন-১৪ এর ৪ নম্বর বাড়ি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন প্রভাবশালীরা। হালিশহর হাউজিং এস্টেটের ১ নম্বর রোডের আই ব্লকের ১৪ লেনের ৬ নম্বর বাড়িটি মেহেরুন নেছা, ২ নম্বর রোডের ২৮, বি-এল-১৮ বাড়িটি আব্দুল মতিন, ২ নম্বর রোডের বি, লাইন-১০ এর ১ নম্বর বাড়িটি বিবি মরিয়ম, ১ নম্বর রোডের লেন-৬, ৩/বি বাড়িটি মো. ইউনুস, ২ নম্বর রোড়ের লেন-১, ৩/বি বাড়িটি আবুল কালাম সেলিম, ২ নম্বর রোডের লেন-৪, ৮/বি বাড়িটি জাহেদা খানম, ২ নম্বর রোডের ৬২/বি বাড়িটি অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন সাঈদ আহম্মদ, ১ নম্বর রোডের আই, লেন-১০, ১৪ নম্বর বাড়িটি ফজলে এলাহি ও ১৫ নম্বর বাড়িটি মো. নাসির উদ্দিন, ২ নম্বর রোডের বি/লেন-১০, ১১ নম্বর বাড়িটি রফিকুল ইসলাম, ২ নম্বর রোডের বি/ লেন-১২, ১ নম্বর বাড়িটি এসএম আবদুল আলী দখল করে আছেন। পূর্ব রামপুরা ২১৪৩ নং বাড়িটি দখল করে রেখেছেন মনির হোসেন।
বায়েজিদ থানায় ১৫টি : নগরীর বায়েজিদ থানায় ১৫টি পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে। এগুলো হলো-বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ হাউজিং এস্টেট এলাকার এফ/বি-৬ নম্বর প্লটটি ইউনুস সিদ্দিক, এফ/বি-৭ নম্বর প্লটটি জয়নাব বানু, এফ/এ-১১ নম্বর প্লটটি প্রভাবশালীরা, এফ/ই-১০ নম্বর প্লটটি ফরিদ বেগম ও তার দুই ছেলে, এফ/এইচ-৪ প্লটটি সেলিম জাবেদ, এফ/এইচ-৮ প্লটটি জামাল উদ্দিন, ৬ নম্বর প্লটটি রাসেল, ৭ নম্বর প্লটটি খুরশীদ জাহান, ১৫ নম্বর প্লটটি খোরশেদ আলম, ২৪ নম্বর প্লটটি মৃত জয়নাল আবেদিনের পরিবার, এফ/বি-১১ প্লটটি সাহেব আলী, এফ/বি-৫ নম্বর প্লটটি কাজী হোসেন আহম্মদ, এফ-জি-৭ নম্বর প্লটটি রাবিয়া বেগম অবৈধ দখল করে আছেন। বায়েজিদ থানাধীন নাসিরাবাদ ১১৩৯/৭৪৮ নম্বর বাড়িটি নুর মোহাম্মদ, নাসিরাবাদের জালালাবাদ ২১০/৭৫ বাড়িটি হাবিবুর রহমান দখল করে রেখেছেন।
পাঁচলাইশ থানায় ৯টি : নগরীর পাঁচলাইশ থানায় পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে নয়টি। এগুলো হলো- নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৩ নম্বর রোডের ২০/বি-২ নম্বর বাড়িটি আয়েশা খাতুন, ৫৪/বি-২ নম্বর বাড়িটি আবু মো. নুরুল ইসলাম এবং ৩৩/বি-১ বাড়িটির একাংশ মোস্তাফা বেগম অবৈধভাবে দখল করে আছেন। পশ্চিম ষোলশহরের ১৩০১/১২৯৩ নম্বর বাড়িটি ইসতিয়াক বাবু, ষোলশহরের হাউস অন ৭ নম্বর প্লটটি আবদুর রশিদ ভেডা ফকির রশিদিয়া এতিমখানা, ওআর নিজাম রোডের ৪৮৭ নম্বর বাড়িটি জেড আই চৌধুরী, পশ্চিম ষোলশহরের ১৩১২/১৩০৩ বাড়িটি আবদুর রশিদ, মো. ইউসুফ, আহাম্মদ উল্লা, আবদুল মালেক, আবদুর রাজ্জাক, তাজুল ইসলাম, দারু মিয়া ও মকবুল আহম্মদ, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৩৭/এ-২ বাড়ি দখল করেছেন নায়েব আলী সরকার। কেবি ফজলুল কাদের রোডের ১৬ নম্বর বাড়িটি অবৈধভাবে দখল করে আছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান নূরজাহান ভূঁইয়া।
পাহাড়তলী থানায় ৬টি : নগরীর পাহাড়তলী থানায় ছয়টি পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে। এগুলো হলো-উত্তর পাহাড়তলীর ১৮১ নম্বর বাড়িটি দখলে রেখেছেন আবুল হোসেন, ১৩৭৩ নম্বর বাড়িটি হোসনে আরা বেগম, ৪৯৬১ নম্বর বাড়িটি অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট সার্জেন্ট শামসুল হক দখল করে আছেন। দক্ষিণ পাহাড়তলীর ১১৫১/১১৫২ নম্বর বাড়িটি দখল করে আছেন মো. সিরাজ উদ্দিন। ১০ দশমিক ১২ শতাংশ জমির উত্তর পাহাড়তলীর ১৬৫৬/১৭১০ নম্বর বাড়িটি দখল করে আছেন মো. রমজান আলী। পূর্ব পাহাড়তলীর ১৫০ নম্বর প্লটটি দখল করে আছেন আক্তার হোসেন।
ডবলমুরিং থানায় ৫টি : নগরীর ডবলমুরিং থানায় পাঁচটি পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে। এগুলো হলো-সিএন্ডবি এলাকার ১২ নম্বর প্লট ও এস. এ ৫৬১ নম্বর প্লটটি দখল করেছে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ ও এতিম থানা, মাদারবাড়ি ১৪৩/১৪৪ নম্বর বাড়িটি আসাদুল হকের পরিবার দখল করে রেখেছেন। মোগলটুলি ১৪ নম্বর বাড়িটি দখলে রেখেছেন বিভাগীয় কমিশনার অফিসের অবসরপ্রাপ্ত এক নাজির। ডবলমুরিং থানার পাঠানটুলি ৭০ নম্বর বাড়িটি দখল করে আছে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা শফিউল বাশারের পরিবার।
সদরঘাট থানায় ৩টি : নগরীর সদরঘাট থানায় পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে তিনটি। এগুলো হলো-সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ার ২ নম্বর বাড়িটি মো. দুলাল, সুবোধ রায়, সুজিত রায় ও এম এন ইসলাম, নালাপাড়া ৩৬ নম্বর বাড়িটি দখল করেছেন নাজির আহমদ। সদরঘাট রোডের ৯৪ নম্বর বাসাটি দখল করে আছেন সালাহ উদ্দিন নামের একজন।
চকবাজার থানায় ২টি : নগরীর চকবাজার থানায় দুটি পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে। এগুলো হলো-দামপাড়া এম এম আলী রোডের ১৮ নম্বর বাড়ির একাংশ জাতীয় মহিলা সংস্থা এবং মেহেদীবাগের ২৮ নম্বর বাড়ির একাংশ দখল করেছে চারজন দোকানদার।
বাকলিয়া থানায় ১টি : নগরীর বাকলিয়া থানায় একটি পরিত্যক্ত প্লট রয়েছে। বাকলিয়া থানাধীন চর বাকলিয়ায় ৩০৪৫ নম্বর এই প্লটটি ইসহাক চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন।
সীতাকুণ্ডে ৩টি : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় তিনটি পরিত্যক্ত প্লট রয়েছে। এগুলো হলো- সলিমপুরের ৭৫৮১, ৭৫৮২ ও ৭৫৮৩ নম্বর প্লট। এসব প্লট অবৈধভাবে দখল করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
চন্দনাইশে ১টি : চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। দোহাজারী সদরের ১৬৬২ ও ১৬৬৩ অংশের ৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এই ভবনটি অবৈধভাবে দখল করেছে দোহাজারী প্রেস ক্লাব।