
গাজী আবু বকর : বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৪ লাখ ৬৮ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। অপরদিকে গণঅভ্যূত্থানে ক্ষমতাচ্যুৎ আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে নিযুক্তদের মধ্য থেকে ১২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং ৫৬৪ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। একই সময়ের বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমানিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য তুলে ধরেন।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য ছিল। এই শূন্যপদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির, অর্থাৎ প্রথম থেকে নবম গ্রেডে খালি রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণির, অর্থাৎ দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেডে শূন্যপদ ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। এ ছাড়া ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ গ্রেডে শূন্য পদ রয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি, সপ্তদশ থেকে বিংশতম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি এবং অন্যান্য ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য। এসব শূন্য পদ পূরণে ছয় মাস, এক বছর ও পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি, ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং ৫ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। তিনি জানান, এই কর্মপরিকল্পনায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ কর্মচারী নিয়োগের জন্য অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য পাঠাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস-এর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিসিএস নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সংসদে প্রশ্ন উত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
রাজবাড়ী-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মবাজার ও প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রচলিত মুখস্থ নির্ভর সিলেবাসের পরিবর্তে স্কিল-বেজড বা দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রচলিত মুখস্থ নির্ভর সিলেবাসের পরিবর্তে স্কিল-বেজড বা দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তন করা বর্তমান কমিশনের একটি অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে কমিশন বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস পরিবর্তনের জন্য একটি কমিটি করেছে, যা বিভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সিলেবাস পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংযোজন করার আশা করছে। মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও কমিশন শিগগিরই যোগ্যতা ভিত্তিক সাক্ষাৎকার (সিবিআই) চালু করতে যাচ্ছে, যাতে প্রার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা ও মনোভাব (কেএসএ) মূল্যায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা হ্রাস করে, এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। ৫০তম বিসিএস এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় পরীক্ষা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট সময় প্রকাশ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ৫০তম বিসিএস এর প্রিলিমিনারী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে এবং লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ এর অক্টোবরে বর্তমান কমিশন গঠনের পর ইতোমধ্যে ৪৪, ৪৫, ৪৬ বিসিএস এবং ৪৮ ও ৪৯ (বিশেষ) বিসিএস এর কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।
