আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ঢাকায় সমাবেশ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য

নয়াবার্তা রিপোর্ট : ‘আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে’ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন রাজধানীতে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিজয়নগরে অনুষ্ঠেয় এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে জামায়াত আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের।

একই দাবিতে আগামী ৪ জুলাই দেশের সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে এই মোর্চা।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ২৩ জুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি ‘বেদনাবিধুর দিন’।

১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরের পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে জাতীয় স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে একটি জাতিকে ভয়াবহ মূল্য দিতে হয়।

তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অধ্যায়ের অবসান হলেও দেশে ‘ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা’ ও নতুন করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চলছে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সীমান্তে হত্যা, অপহরণ ও কৃষকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। তিনি সীমান্ত এলাকায় উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধির অভিযোগও করেন।

বিচারহীনতার সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডি, বিরোধী মতের মানুষের গুম-খুন, আলেম-উলামা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং জুলাই-আগস্টের গণহত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার এখনও জাতির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

তার ভাষ্য, এসব ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন না হওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে এবং ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’ পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, রোববার রাতে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক এবং সোমবারের জরুরি সভায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গণহত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের একটি কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, আগামী ২৫ জুন ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে কর্মসূচিটি চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিনী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মাওলানা মুসা বিন ইযহার, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেনসহ শরিক দলগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Share