চলতি অর্থবছরে বিটিভির আয় ৮ কোটি, ব্যয় ২৫৪ কোটি টাকা: সংসদে তথ্যমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি : চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) মে মাস পর্যন্ত করসহ বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মোট আয় হয়েছে ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে তা উপস্থাপন করা হয়।

তথ্যমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে বিটিভির মোট আয়ের মধ্যে বিজ্ঞাপন শাখা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ টাকা। একই সঙ্গে তিনি বিটিভির গত পাঁচ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, ব্যয় ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ব্যয় ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় দাঁড়ায় ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা, ব্যয় ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ব্যয় ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের (বাবুল) প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অপপ্রচার, কুৎসা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় ‘বাংলাফ্যাক্ট’ কার্যক্রম চলমান। এখন পর্যন্ত বাংলাফ্যাক্ট ৭৮৩টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণধর্মী ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও বা রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকাশিত হয়েছে ২২৯টি। সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে প্রোপাগান্ডা ও অপতথ্য প্রচারকারী ১৬টি ওয়েবসাইট চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ায়, এমন ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ১৯৯টি এক্স অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া গণমাধ্যম ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদীরা কীভাবে বিরোধীদের দমন ও চরিত্রহনন করেছে, সে বিষয়ে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ‘শিকারি সাংবাদিকতা’ শীর্ষক গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশ করেছে।

গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হকের (মিলন) প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে তথ্য অধিদপ্তরের ফ্যাক্টচেকিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন সকালে দৈনিক পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণ, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্টের লিংকগুলো ছকবদ্ধ প্রতিবেদনের আকারে প্রস্তুত করা হয়।

জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ভুঁইফোড় সাংবাদিকতা রোধে প্রকৃত সাংবাদিকদের যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিবন্ধন ও ডেটাবেজ প্রণয়নের সুনির্দিষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করে ‘প্রেস কাউন্সিল আইন, ১৯৭৪’ সংশোধনের কার্যক্রম চলমান। এ ছাড়া প্রেস কাউন্সিল প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের অনলাইন ডেটাবেজ তৈরির জন্য ইতিমধ্যে ৩২টি জেলা থেকে পাওয়া সাংবাদিকদের তথ্য হালনাগাদের কাজ করছে।

ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ৫৫। এর মধ্যে ৩৯টি সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মন্ত্রী আরও জানান, সারা দেশে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১ হাজার ৪৩৬। এর মধ্যে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৫৯৩টি এবং অন্যান্য জেলা থেকে প্রকাশিত ৮৪৩টি। নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা ৪৭৪। এর মধ্যে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ২৮২টি, দৈনিক পত্রিকার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ১৩১টি ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ৬১টি রয়েছে।

চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিগত ১৫ বছরে ৪০টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় ছয়টি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের ৬৪টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে।

গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩টি বর্তমানে অলাভজনক।

Share