স্ত্রী-শাশুড়িকে হত্যার পর থানায় যুবক

তালাকের পরও একসঙ্গে বসবাস

নয়াবার্তা প্রতিবেদক : রাজধানীর কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন মো. শিপন নামের এক যুবক। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত যুবক নিজেই কলাবাগান থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।

রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে কাঁঠালবাগান আল আমিন মসজিদের পাশের একটি পাঁচতলা ভবনের ফ্ল্যাটে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নিহতরা হলেন— স্ত্রী রাত্রি (২০), শাশুড়ি ফিরোজা বেগম (৩৫)।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত রাত্রির সঙ্গে শিপনের পূর্বে তালাক সম্পন্ন হয়েছিল। আইনগতভাবে বিচ্ছেদ ঘটলেও তারা একই ছাদের নিচে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৯টার দিকে কলাবাগানের আল আমিন মসজিদের পাশের ৫২ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রী রাত্রির সঙ্গে শিপনের তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে শাশুড়ি ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষ নিয়ে জামাইয়ের আচরণের প্রতিবাদ করেন।

উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে শিপন ঘর থেকে ধারালো অস্ত্র এনে স্ত্রী ও শাশুড়িকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান স্ত্রী রাত্রি। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক জানান, “সকাল ৯টার দিকে কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বাসায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন মো. শিপন। এতে ঘটনাস্থলেই স্ত্রী মারা যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর শাশুড়ির মৃত্যু হয়।”

তিনি আরও জানান, “হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত শিপন পালিয়ে না গিয়ে নিজেই কলাবাগান থানায় এসে হাজির হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, রাত্রির সঙ্গে তার ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পরও তারা একত্রে বসবাস করতেন। বর্তমানে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

Share