মাসিক পেনশন সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০, সর্বনিম্ন ১৮ হাজার টাকা

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি

গাজী আবু বকর : অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতা কার্যকরের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে নতুন বেতনকাঠামোকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করে। গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর আজ শনিবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন। এই অর্থ গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। আর অবসরে যাওয়া পেনশনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন বাড়ছে পাঁচ ধাপে।

অবসরে যাওয়া পেনশনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন বাড়ছে পাঁচ ধাপে। ফলে যেসব পেনশনভোগী দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন ও তুলনামূলক কম পেনশন পাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পেনশন বাড়ার পরিমাণ বেশি হবে। বেতনকাঠামোতে এ কথা বলা হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপনে সর্বনিম্ন পর্যায়ের বর্তমানে যাঁরা ৯ হাজার টাকা পেনশন পান, তাঁরা এখন পাবেন ১৮ হাজার টাকা। আর বর্তমানে সর্বোচ্চ যাঁরা মাসে ৪০ হাজার ১ টাকা থেকে তার বেশি পেনশন পান, তাঁরা পাবেন ৭০ হাজার ২০০ টাকা টাকা।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন গ্রহণকারীদের পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত গ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ আর ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন বাড়বে ৫৫ শতাংশ।

গত ৩১ আগস্ট নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। সেদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বর্তমান সরকার ‘এক গ্রেড এক পেনশন (ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন-ওআরওপি)’ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ পদ্ধতি সামরিক ও বেসামরিক—সব ক্ষেত্রে একই সঙ্গে বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন। তবে এই পদ্ধতি চালু করতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। সেই সঙ্গে বেসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগের অবসর গ্রহণকারীদের তথ্য না থাকায় এ পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

Share