
র্যাব-১–এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম অভিযান শেষে আজ মঙ্গলবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
সারওয়ার বিন কাশেম জানান, অনলাইনে ক্যাসিনো কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আগে প্রত্যেক জুয়াড়িকে নির্দিষ্ট ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে হতো। এখন পর্যন্ত এমন তিনটি ব্যাংকের নাম জানতে পেরেছে র্যাব। ব্যাংকগুলো হলো যমুনা ব্যাংক, কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সিলং ব্যাংক। অ্যাকাউন্টগুলোয় নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রাখতে হতো। খেলায় জিতলে বা হারলে ওই অ্যাকাউন্টে টাকা যোগ হতো বা কাটা যেত। সম্পূর্ণ লেনদেন হতো একটি গেটওয়ের মাধ্যমে। এখন পর্যন্ত একটি গেটওয়েরই সন্ধান পেয়েছে র্যাব। সন্ধান পাওয়া ওই গেটওয়েতে কেবল এক মাসেই প্রায় নয় কোটি টাকা জমা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আরও গেটওয়ে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে সেলিমের দুই সহযোগী আখতারুজ্জামান ও রোকন লেনদেনের এই টাকা হয় নগদে তুলে নিতেন, নয়তো বিদেশে পাঠিয়ে দিতেন।

সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বৈদেশিক মুদ্রা আইন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী চারটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
সারওয়ার বিন কাশেম আরও জানিয়েছেন, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল সেলিম প্রধানের। ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে সেলিম প্রধান মামুনকে বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দেন। সেলিম লন্ডনে টাকা পাঠাতেন বলেও তথ্য পেয়েছে র্যাব। সেখানে কার কাছে টাকা পাঠাতেন, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা থেকে থাইল্যান্ড যাচ্ছিলেন সেলিম প্রধান। খবর পেয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে তাঁকে নামিয়ে আনে র্যাব-১-এর একটি দল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর গুলশান ও বনানীর দুটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নগদ ২৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা, ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকার সমপরিমাণ ২৩টি দেশের মুদ্রা, ১২টি পাসপোর্ট, ১৩টি ব্যাংকের ৩২টি চেক, ৪৮ বোতল বিদেশি মদ, একটি বড় সার্ভার, চারটি ল্যাপটপ ও দুটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় সেলিম প্রধান ও তাঁর দুই সহযোগী আখতারুজ্জামান ও রোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
