দাঁতের গর্তকে অবহেলা নয়

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা : মুখগহ্বরের অনেক রোগকেই আমরা গুরুত্ব দিই না। কিন্তু কমবেশি ব্যথা বা উপসর্গহীন রোগগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পরবর্তী সময়ে জটিল আকার ধারণ করে। এমনই একটি সমস্যা হলো দাঁত ভেঙে যাওয়া, দাঁতে ফাঁক বা গর্ত সৃষ্টি হওয়া।

ক্যারিজ বা জীবাণুর কারণে ক্ষয় অথবা দুর্ঘটনায় দাঁত ভেঙে গেলে এবং দাঁতের মজ্জা আক্রান্ত না হলে দ্রুত ফিলিং করিয়ে নেওয়া জরুরি। এই গর্ত প্রাকৃতিকভাবে ভালো হয় না। ফিলিং অতি সহজ, নিরাপদ ও স্বল্প খরচের একটি চিকিৎসা।

মাসে একবার আয়নার সামনে দাঁতগুলো দেখার চেষ্টা করুন। কোথাও কালো দাগ, গর্ত বা অস্বাভাবিক খাবার জমে আছে কি না, দেখুন। জিহ্বায় দাঁতের কোনো অংশ অমসৃণ লাগে কি না, তা–ও খেয়াল করুন। লক্ষ করুন, ঠান্ডা পানি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারে দাঁত শিরশির করে কি না। এ ধরনের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

দাঁতের মজ্জা আক্রান্ত হলে : সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে দাঁতের ভেতরকার মজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যথার সৃষ্টি হয়। প্রচলিত ধারণা হলো, দাঁতের রুট ক্যানেল চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল এবং বারবার করতে হয়। কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিয়ে মজ্জাকে আক্রান্ত করার কারণেই কিন্তু রুট ক্যানেল দরকার হয়। তবে আগে থেকে সচেতন হলে রুট ক্যানেল এড়ানো যায়।

মজ্জা আক্রান্ত হলে রুট ক্যানেল চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁতকে সুস্থ করে তুলতে হবে। তা না করে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক খেলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক অবস্থার সৃষ্টি হয়, নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হয়। তেমনই অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ থেকে পেপটিক আলসার, কিডনি রোগসহ নানা জটিলতা হতে পারে। অন্যদিকে চিকিৎসা না করালে মজ্জা আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে সংক্রমণ দাঁতের গোড়ার হাড়ের মধ্যে ছড়াতে থাকে।

শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো হলে অথবা সংক্রমণের মাত্রা কম হলে দাঁতের গোড়ায় বড় ধরনের উপসর্গ ছাড়াই গ্র্যানুলোমা থেকে সিস্ট, টিউমার হয়ে হাড়ের ক্ষয় শুরু হতে পারে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হলে পুঁজ জমে সেলুলাইটিস বা মুখ ফোলাসহ লাডউইগ এনজাইনারের মতো মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তখন দাঁতের সংরক্ষণ জটিল এবং অনেকটা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ক্ষেত্রবিশেষে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে দাঁতই ফেলে দিতে হয়।

এদিকে দাঁতের ভাঙা অংশ অনেক সময় ধারালো হয়ে মুখের নরম অংশে ক্ষত সৃষ্টি করে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে সেখান থেকে ক্যানসারও হতে পারে। কাজেই মুখের যত্নে অবহেলা করা চলবে না।

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা, রাজ ডেন্টাল সেন্টার, কলাবাগান, ঢাকা