
নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরের পর চট্রগ্রামের ভাটিয়ারিতে সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এজন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ করপোরেশন-বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড-জেটিএমএলের প্রায় ৫৫ একর জায়গা সেনাবাহিনীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিটিএমসির কাছ থেকে জমি বুঝে নেওয়া সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদি ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সেনাবাহিনী পরিচালিত দেশের একমাত্র সমরাস্ত্র কারখানাটি রয়েছে গাজীপুরে।
ভাটিয়ারিতে আরেকটি সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপনের তথ্য দিয়ে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সেখানে ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জায়গাজুড়ে থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলটি সমরাস্ত্র কারখানার জন্য প্রতীকী মূল্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
গেল ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়।
জানা যায়, ১৯৬১ সালে ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হয় জলিল টেক্সটাইল মিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সরকার এক আদেশে মিলটি জাতীয়করণ করে বিটিএমসর অধীনে নেয়।
লোকসান ও অব্যবস্থাপনার কারণে ২০০৪ সালে মিলটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক হাজারের বেশি শ্রমিকের প্রায় ২০ কোটি টাকা পাওনা বকেয়া হয়ে পড়ে।
প্রায় দুই বছর আগে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কারখানাটির জায়গায় সমরাস্ত্র কারখানা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সবশেষ এ সরকার তা অনুমোদন এবং জমি হস্তান্তর করল।
গাজীপুর জেলার চতর এলাকায় তিন শতাধিক একর জায়গাজুড়ে দেশের একমাত্র সামরিক কারখানা স্থাপিত হয় ১৯৭০ সালে।
আইএসপিআর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিটিএমসির পক্ষের সংস্থার চেয়ারম্যান ও সেনাবাহিনীর পক্ষে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন সার্কেলের মিলিটারি এস্টেট অফিসার জমি হস্তান্তর চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষা সামগ্রীসহ দেশে উৎপাদিত সকল ধরনের পণ্য বহির্বিশ্বে সমাদৃত করতে চায়।”
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও সেনাবাহিনী প্রধানের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ সশস্ত্র বাহিনী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সেনাবাহিনী প্রধান সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে তিন আশা প্রকাশ করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের আগে স্বাগত বক্তব্য দেন সেনাবাহিনীর কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম, বিটিএমসি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের একমাত্র অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রসারণের মাধ্যমে আধুনিক সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদের দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও সুসংহত হবে।
এ উদ্যোগ সমরাস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
