নাস্তায় শুধু ফল খেলে বাড়তে পারে মেদ


বিকেলের নাস্তায় শুধু কলা খেয়ে হয়ত ভাবছেন, এবার পেটের চর্বিটা কমবে! বরং ঘটতে পারে উল্টোটা

দুপুরের মূল খাবার এবং রাতের খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে ক্ষুধা লাগা এবং হালকা নাস্তা বা স্ন্যাকিং করা সাধারণ বিষয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সঠিক নিয়মে নাস্তা করলে, শরীরে শর্করার মাত্রার বড় ধরনের ওঠানামা রোধ করে এবং পরে প্রধান খাবারে অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

তবে অনেকেই স্বাস্থ্যকর ভেবে বিকেলের নাস্তায় শুধু এক বাটি ফলমূল বা কলা খেয়ে থাকেন।

পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, খালি পেটে শুধু ফল খেলে তা প্রাকৃতিকভাবেই রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করা বাড়িয়ে দেয়, যা মেদ হিসেবে সরাসরি পেটে জমা হয়।

স্বাস্থ্য-বিষয়ক পোর্টাল ‘ইটদিস নটদ্যাট’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে, যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কলম্বাসের নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ ভাইওলেটা মরিস বলেন, “ফলের সঙ্গে প্রোটিন এবং ভালো চর্বি বা ফ্যাট যোগ করে ফিউশন তৈরি করলে, কোনো কড়া ওষুধ ছাড়াই পেটের জেদি মেদ ঝরাতে ভূমিকা পালন করে।”

শুধু ফল খাওয়া পেটের চর্বিও বাড়াতে পারে : ভাইওলেটা মরিস নিজের শরীরের ওপর নিয়মিত ‘গ্লুকোজ মনিটর’ পরে, বিশেষ ল্যাবরেটরি পরীক্ষা চালান।

তিনি লক্ষ্য করেন যে, যখনই তিনি বিকেলের নাস্তায় শুধু একটি কলা বা তরমুজ খেতেন, তখনই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেত।

ইনসুলিনের গোপন ফাঁদ: রক্তে গ্লুকোজ হঠাৎ বেড়ে গেলে মস্তিস্কের সংকেতে শরীর থেকে ‘ইনসুলিন’ হরমোন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিনের মূল কাজ হল, রক্ত থেকে অতিরিক্ত চিনি বা শর্করা টেনে নিয়ে চর্বি হিসেবে শরীরের বিভিন্ন কোষে, বিশেষ করে পেটের চারপাশে জমা করা। ফলে দিনে বারবার শুধু মিষ্টি ফল খেলে ইনসুলিন উপচে পড়ে এবং পেটের মেদ ঝরানো অসম্ভব হয়ে ওঠে।

পেটের মেদ ঝরাতে নাস্তা করার নিয়ম : ভাইওলেটা মরিস, নিজের খাদ্যাভ্যাস থেকে ফলমূল পুরোপুরি বর্জন করেননি; বরং তিনি ফলের ব্যবহারকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পরিবর্তন করেছেন।

বাদামের সঙ্গে সমন্বয়: তিনি ফল খাওয়ার ঠিক আগে এক মুঠো কাঠবাদাম বা ব্রাজিল নাটস খাওয়া শুরু করেন। বাদামে থাকা উচ্চ মানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফলের প্রাকৃতিক ফ্রুক্টোজের পরিপাক প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত ধীর করে দেয়।

১০ গ্রামের বৈজ্ঞানিক পরিমাপ: বিকেলের নাস্তায় সবসময় ন্যূনতম ১০ গ্রাম প্রোটিন, সঙ্গে আঁশ বা আঁশ যুক্ত খাবার রাখা উপকারী। এই সমন্বয়ে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ইনসুলিন নিঃসরণের হার কমায় এবং শরীরকে বাধ্য করে জমানো পেটের চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপন্ন করতে।

নাস্তা করার সময় যেসব ভুল এড়াতে হবে : পরিকল্পনাহীন অলস খাওয়া: ক্ষুধা লাগার পর, সামনে যা পাওয়া যায় (যেমন চিপস বা বিস্কুট) তা খাওয়া ভুল অভ্যাস। পরিশোধিত শর্করা ও স্যাচুরেইটেড ফ্যাট রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে কমিয়ে দেয়, যে কারণে মেজাজ খিটখিটে হতে পারে।

অতিরিক্ত ঘন ঘন খাওয়া: ক্ষুধা না লাগলেও শুধুই অলস সময় কাটাতে প্রতি ১-২ ঘণ্টা পর পর নাস্তা করলে, শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি জমা করে ওজন বাড়িয়ে দেয়।

পুষ্টির মানের অভাব: ফল অবশ্যই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সেরা প্রতিষেধক। তবে শুধু ফল খাওয়া বন্ধ করে বরং প্রধান খাবারের পর ডেজার্ট হিসেবে অথবা বাদামের সঙ্গে খাওয়া নিরাপদ।

Share