
নয়াবার্তা ডেস্ক : ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার পর এবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার ৪৭টি সদস্য দেশের এই সংস্থাটি।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে এএফসি জানায়, ফিফার এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বৈশ্বিক ঐকমত্য অর্জন করা বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে তারা মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশ্বের সব কনফেডারেশন ও ফুটবল খেলুড়ে দেশগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণ।
তাই টুর্নামেন্টের ঐক্য ও সার্বজনীন চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এমন যেকোনো উদ্যোগ নতুন করে ভাবা উচিত।
এর আগে একই ধরনের আপত্তি জানিয়েছিল ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের সংস্থা কনকাকাফ। এএফসিও তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করায় ইনফান্তিনোর প্রস্তাব বড় ধরনের চাপে পড়েছে।
এএফসির অবস্থান ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফিফার দীর্ঘদিনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করেন। তিনি এই পরিকল্পাকে ‘ফুটবলের ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখার শামিল’ এবং ‘ভুল চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেন।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ব ফুটবলের প্রধান প্রতিযোগিতাগুলো পরিচালনার জন্য একটি আলাদা বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রাইভেট ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নাল-এর মতো বিনিয়োগকারীদের সংখ্যালঘু অংশীদার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক জেপি মরগানের তৈরি প্রস্তাবে সদস্য দেশগুলোর আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও, ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহাদেশীয় সংস্থা।
ফিফার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এই প্রস্তাব পাস করতে ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টি ভোট প্রয়োজন। কিন্তু উয়েফার ৫৫, কনকাকাফের ৩৫ এবং এএফসির ৪৬ সদস্য—এই তিন কনফেডারেশনের সম্মিলিত ভোটই ১৩৬। ফলে তারা যদি একজোট থাকে, তাহলে প্রস্তাবটি অনুমোদনের সম্ভাবনা কার্যত খুবই ক্ষীণ।
এএফসি আরও অভিযোগ করেছে, সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার দুর্বলতাই তুলে ধরেছে। অন্যদিকে উয়েফা আগেই সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে তারা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো কঠোর অবস্থানও বিবেচনা করতে পারে।
যদিও ফিফার দাবি, তারা ‘ফুটবল বিক্রি’ করতে চায় না এবং পুরো বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। সংস্থাটির ভাষ্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করা। তবে বিশ্বের তিনটি বড় কনফেডারেশনের প্রকাশ্য বিরোধিতার মুখে ইনফান্তিনোর এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
