
বিশেষ প্রতিনিধি : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সৈনিক, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটের দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জমির উদ্দিন সরকারের সহধর্মিণী নূর আখতার ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্রসন্তান রেখে গেছেন। তাঁর পুত্র ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মরহুমের দ্বিতীয় জানাজায় অংশ নিয়ে শেষবারের মতো ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১২ জুলাই) আসরের নামাজের পর জাতীয় সংসদ ভবনে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণ প্লাজার পরিবর্তে জানাজা হয় জাতীয় সংসদের মূল ভবনের প্রবেশ টানেলে।
জানাজা শেষে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন। এরপর পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষ থেকেও তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের নেতৃত্বে অন্যান্য হুইপরা, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এরপর মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য ও কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুল ইসলাম এবং চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।
এর আগে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন। পরে অধিবেশনে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, জমির উদ্দিন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি লাভ করেন।
দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
বিভিন্ন সময়ে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
