
শ্যামনগর প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা–৪ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’–এর ব্যানারে আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শ্যামনগর সদরে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে উপজেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা, তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল ও তাঁকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য আশেক–ই–এলাহী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা আবু সাঈদ, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নুরজাহান পারভীন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সুলতানুল আরেফিন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মো. মনিরুজ্জামান প্রমুখ।
উপজেলা বিএনপির সদস্য আশেক–ই–এলাহী বলেন, ‘এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে সরকারের কাছে দাবি জানাই, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’
উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী নুরজাহান পারভীন বলেন, ‘আমরা নারীদের নিরাপত্তা চাই। বড় বড় কথা বললেই হবে না, নারীদের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
পদ্মপুকুর ইউপির চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম সমাবেশে বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু আজ তাঁরা প্রতারিত বোধ করছেন। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই। শ্যামনগরে আমরা গাজী নজরুলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।’ তিনি তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ঘটনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘নৈতিক পদস্খলন’ ঘটেছে। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তাঁর পদে বহাল থাকার নৈতিক অধিকার নেই। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার ও সংসদ সদস্য পদ বাতিলের উদ্যোগ নিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
