নতুন কিছু ভাবতে বাধ্য করছে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা


নয়াবার্তা  ক্রীড়া ডেস্ক : টানা দুটি দিন দুর্দান্ত বাংলাদেশ। গতকাল মাহমুদুল হাসান আর নাজমুল হোসেন ছড়ি ঘুরিয়েছেন। আজ ছিল মুমিনুল হক আর লিটন দাসের দিন। বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে টেস্টে নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলাররা ঘেমে-নেয়ে উঠছেন—এমন দৃশ্য সাধারণত দেখা যায় না। সেদিক দিয়ে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে নতুন দৃশ্যপটই রচনা করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি, মিচেল ওয়াগনার, কাইল জেমিসনরা উইকেট তুলে নিতে ওভারের পর ওভার বল করে যাচ্ছেন—এটা তাদের জন্যও নতুন অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তার বন্দনা চলছে সর্বত্রই। কিউই বোলাররাও গলা মিলিয়েছেন এর সঙ্গে। কাল যেমন ওয়াগনারের প্রশংসা পেয়েছেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। আজ পেলেন ট্রেন্ট বোল্টের প্রশংসা। যদিও আজ মুমিনুল হক আর লিটন দাসকে ২৯ বলের ব্যবধানে ফিরিয়ে দিয়ে দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছেন বোল্ট। দিনের শুরুর ভাগে তিনি ফিরিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের আরেক সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকেও।

বোল্টের মতে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশ, ‘তারা খুবই ভালো খেলছে। ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণও করছে তারা। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা আমাদের স্পেলের পর স্পেল বোলিং করিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এটাই আসলে টেস্ট ক্রিকেট।’

নিজের পাওয়া উইকেটগুলো নিয়ে দারুণ সন্তুষ্টি বোল্টের, ‘উইকেটগুলো পেয়ে দারুণ হয়েছে। যেভাবে আমরা দাঁতে দাঁত চেপে বোলিং করে যাচ্ছি, ম্যাচের পরিস্থিতি খুব বেশি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দিইনি। শেষের দিকে দুটি উইকেট পাওয়াটা খুব ভালো হয়েছে।’

তবে উইকেটগুলো যে সহজে তুলে নিতে পারেননি, সেটিই বলেছেন বোল্ট, ‘বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। কষ্ট করেই তাদের উইকেট নিতে হচ্ছে। খুব ভালো খেলছে তারা। তবে এই টেস্ট ম্যাচ এখনো যেকোনো দিকেই যেতে পারে।’

কালকের দিনটির দিকে এই মুহূর্তে তাকিয়ে আছেন বোল্ট। তবে বাংলাদেশ যে কালও চোখে চোখ রেখে লড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তিনি, ‘দেখি কাল কী হয়। বাংলাদেশ অবশ্যই আরও বেশি সময় ধরে ব্যাটিং করতে চাইবে। বড় লিড নিতে চাইবে। শেষ দুই দিনে তারা আমাদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে চাইবে। যেকোনো ফলই আসতে পারে এই টেস্টে।’

বোল্টের চেনা প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। ঘরে–বাইরে অনেকবারই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছেন। তিনি খুশি বাংলাদেশের উন্নতিতে, ‘আমরা বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রচুর খেলি। সেটি ঘরের মাঠেই হোক, কিংবা বাংলাদেশের মাটিতেই হোক। তারা উন্নতি করছে। একটা কথা বলতে পারি, আমরা মোটেও বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজটি হালকাভাবে নিইনি। রোমাঞ্চিত লাগছে যে এই টেস্টটি যেকোনো দিকেই যেতে পারে। এই টেস্ট ম্যাচটা দুই দলের জন্যই কঠিন পরীক্ষা—এটা বলতে পারি।’