নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

নয়াবার্ত‍া প্রতিবেদক : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। বেশিরভাগ আসনেই নৌকার প্রার্থীকে নিজ দলের বিরোধিতাকারী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই করতে হবে। এছাড়া ১৪ দলীয় জোট শরিক ও জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতেও ভোটযুদ্ধ হবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে।

অবশ্য এবার আওয়ামী লীগ আগে থেকেই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে নমনীয় রয়েছে। দলটি ঘোষণা দিয়েছে—স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তারা কোনও সাংগঠনিক ব্যবস্থায় যাবে না। পাশাপাশি দলের মনোনীত প্রার্থীদেরও স্পষ্ট জানিয়েছে দিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই জিতে আসতে হবে। এমনকি ১৪ দলীয় জোটের শরিক ও জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের তুলে নেওয়ার জন্য দরকষাকষি করলেও ক্ষমতাসীন দল তাতে সায় দেয়নি। তারা বলেছে, নিজেরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতে আসবে। অন্যদেরও সেটা করতে হবে। সব মিলিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের ভোটে অংশগ্রহণ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে দলের হেভিওয়েটসহ অনেক প্রার্থীকে। ক্ষমতাসীনরা শরিক ও মিত্রদের জন্য কিছু আসনে দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিলেও রয়ে গেছেন নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর বর্তমানে ভোটের মাঠে এক হাজার ৮৯৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ৩৮৪ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত। তাদের মধ্যে বর্তমান সংসদের একাধিক এমপি, একাধিক সাবেক এমপি ও মন্ত্রিসভার সদস্য, জেলা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। রয়েছেন সংগঠনের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও। এর বাইরে জাতীয় পার্টির হাতে গোনা কয়েকজন,বিএনপির বহিষ্কৃত দুই-একজন এবং কোনও দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন কয়েকজন স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন।

ইসির সমন্বিত প্রার্থী তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২২১টিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। বেশ কিছু আসনে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছেন। ১৪ দলীয় জোট শরিকদের ছেড়ে দেওয়া ৬টি আসনের মধ্যে রাজশাহী-২ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা বাদে বাকি ৫টিতেই রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী। জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া ২৬টি আসনের মধ্যে কুড়িগ্রাম-১ (এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান), পটুয়াখালী-১ (এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার), ময়মনসিংহ-৫ (সালাহ উদ্দিন আহমেদ মুক্তি), মানিকগঞ্জ-১ (জহিরুল আলম রুবেল) ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (এ কে এম সেলিম ওসমান) ছাড়া বাকি ২২টি আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হবে জাপার প্রার্থীকে। এদিকে ক্ষমতাসীন দলেরও শতাধিক প্রার্থীকে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে। বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যসহ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার জন্যও নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রংপুর বিভাগ : এ বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯টিতেই রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বেশ কয়েকটি আসনে রয়েছেন একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী। বিভাগের পঞ্চগড়-১ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট। তার সঙ্গে নৌকার প্রার্থীর তুমুল প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের ছেলে নৌকার মাঝি মাজহারুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন চাচাতো ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ থেকে সদ্য পদত্যাগী চেয়ারম্যান আলী আছলাম।

দিনাজপুরের ৬টি আসনের সবগুলোতেই রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে অন্তত দুটি আসনে স্বতন্ত্রদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। দিনাজপুর-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ কুমার ঘোষ কাঞ্চন এবং দিনাজপুর-৬ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি আজিজুল হক চৌধুরীর তীব্র লড়াই হতে পারে।

নীলফামারীর ৪টি আসনের সবগুলোতে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে নীলফামারী-১-এ স্বতন্ত্র প্রার্থী কিছুটা দুর্বল হলেও এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি ও বর্তমান বিএনএম প্রার্থী জাফর ইকবাল সিদ্দিকীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। নীলফামারী-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মাথাব্যথার কারণ হতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল আবেদীন। জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া নীলফামারী-৩ ও ৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে লড়াই করতে হবে বর্তমান সংসদের জাপার দুই এমপিকে। এ দুটি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশ শক্তিশালী।

লালমনিরহাট-১ আসনে নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি আতাউর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। লালমনিরহাট-২ আসনে নুরুজ্জামান আহমেদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআই’র পরিচালক সিরাজুল হক এবং লালমনিরহাট-৩ আসনে মতিয়ার রহমানের সঙ্গে জাবেদ হোসেনের লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত বর্তমান এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী মসিউর রহমান রাঙ্গা, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ারের সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াই হতে পার। রংপুর-২ আসনে ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কামাল মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশ্বনাথ সরকার বিটু, রংপুর-৫ আসনে নৌকার রাশেক রহমানের সঙ্গে সদ্য পদত্যাগ করা উপজেলা চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের ভোটের লড়াই জমে উঠবে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকেও রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে। অবশ্য স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় নৌকার মাঝি টিপু মুনশির রংপুর-৪ আসনে লড়াইয়ের সম্ভাবনা নেই। তবে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর আসন রংপুর-৬-এ রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া কুড়িগ্রাম-১ আসনে কোনও স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় জাপা প্রার্থীর জন্য এ আসনটি মোটামুটি ঝুঁকিমুক্ত। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সৌমেন্দ্র প্রসাদ পাণ্ডের সঙ্গে জাতীয় পার্টির আব্দুস সোবহান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. আককাছ আলী সরকার এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নৌকার বিপ্লব হাসানের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী ও একেএম সাইফুর রহমানের ত্রিমুখী লড়াই হবে।

গাইবান্ধা-১ আসনে জাপার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সঙ্গে নৌকার প্রত্যাহার করা প্রার্থী আফরুজা বারীর মেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদ নিগারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। একইভাবে গাইবান্ধা-২ আসনে জাপার আব্দুর রশিদ সরকারের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ সারোয়ার কবীর, গাইবান্ধা-৩ আসনে আওয়ামী লীগের উম্মে কুলসুম স্মৃতির সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল হক সরকার ও গাইবান্ধা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার মেয়ে ফারজানা রাব্বী বুবলীর তীব্র লড়াই হতে পারে।

রাজশাহী বিভাগ : এ বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে ৩১টি আসনেই রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক একাধিক এমপিও।

বগুড়া-১ আসনে বর্তমান এমপি সাহাদারা মান্নানের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাদী আলম লিপির, বগুড়া-৬ আসনে বর্তমান এমপি রাগেবুল আহসান রিপুর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নানের, বগুড়া-৪ আসনে জাসদ প্রার্থী একেএম রেজাউল করিম তানসেনের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক এমপি জিয়াউল হক ও কংগ্রেস প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলমের (হিরো আলম) তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বর্তমান এমপি সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও সাবেক এমপি গোলাম রব্বানীর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আ.লীগের জিয়াউর রহমানের সঙ্গে স্বতন্ত্র গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের ভোটযুদ্ধ জমে উঠবে।

নওগাঁর ৬ আসনের মধ্যে নওগাঁ-১ আসনে সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. খালেকুজ্জামান, নওগাঁ-৩ আসনে আ.লীগ প্রার্থী সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি ছলিম উদ্দিন তরফদার, নওগাঁ-৪ আসনে আ.লীগের নাহিদ মোরেশদের সঙ্গে সাবেক এমপি স্বতন্ত্র ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, নওগাঁ-৫ আসনে নিজাম উদ্দিন জলিল জনের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষাণের লড়াই হতে পারে।

রাজশাহীতে ৬টি আসনের মধ্যে রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী নায়িকা শারমিন আক্তার নিপা মাহিয়া মাহি ও সাবেক এমপি গোলাম রব্বানীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে। রাজশাহী-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বেশ ঝুঁকিমুক্ত। রাজশাহী-৪ আসনে আ.লীগের আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে বর্তমান এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের, রাজশাহী-৬ আসনে বর্তমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী রাহেনুল হক।

নাটোরে ৪টি আসনেই হবে তীব্র লড়াই। নাটোর-১ আসনে বর্তমান এমপি শহিদুল ইসলাম বকুলের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি আবুল কালাম, নাটোর-২ আসনে বর্তমান এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, নাটোর-৩ আসনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক এবং নাটোর-৪ আসনে বর্তমান এমপি সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর সঙ্গে তীব্র লড়াই হবে সাবেক এমপির ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ আব্দুল্লাহ বিন শোভনের।

সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনের মধ্যে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে আব্দুল মমিন মণ্ডলের নৌকার বিরুদ্ধে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে চয়ন ইসলামের সঙ্গে সাবেক পৌর মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী হালিমুল হক মিরুর লড়াই তীব্র হবে।

খুলনা বিভাগ : এ বিভাগের ৩৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৩১টিতে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ বিভাগের মধ্যে মেহেরপুরের দুটি আসনে তীব্র ভোটযুদ্ধ হবে। মেহেরপুর-১ আসনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে আ.লীগ দলীয় সাবেক এমপি আবদুল মান্নান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি জয়নাল আবেদীন এবং মেহেরপুর-২ আসনে আ.লীগের আবু সালেহ মো. নাজমুল হক সাগরের সঙ্গে সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের ভোটযুদ্ধ হবে।

কুষ্টিয়া-১ আসনে আ.লীগ প্রার্থী আ ক ম সরওয়ার জাহানকে লড়াই করতে হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এই আসনের সাবেক এমপি দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল হক চৌধুরীর সঙ্গে। রেজাউল হক চৌধুরী ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। কুষ্টিয়া-২ আসনে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে যাচ্ছেন মিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল আরেফিন। কুষ্টিয়া-৩ আসনে মাহবুবউল-আলম হানিফকে এবার স্বতন্ত্রের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়রের ছেলে পারভেজ আনোয়ার। এ ছাড়া কুষ্টিয়া-৪ আসনের বর্তমান এমপি সেলিম আলতাফ জর্জের সঙ্গে লড়বেন সাবেক এমপি আবদুর রউফ।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে আ.লীগ প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে আলোচিত ব্যবসায়ী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমার আগরওয়ালকে। এছাড়া এ আসনে আওয়ামী লীগের উপকমিটির এক সদস্যও নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

ঝিনাইদহ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম দুলাল বিশ্বাসের তীব্র লড়াই হতে পারে।

ঝিনাইদহ-২ আসনে তাহজীব আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল, ঝিনাইদহ-৩ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল আজম খান চঞ্চল, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী সালাহ উদ্দিন মিয়াজীর ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যশোর-১ আসনে শেখ আফিল উদ্দিনের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেনাপোলের সাবেক পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, যশোর-২ আসনে আওয়ামী লীগের তৌহিদুজ্জামান তুহিনের বিপক্ষে সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের স্বপন ভট্টাচার্য্যের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াকুব আলী, যশোর-৬ আসনে আওয়ামী লীগের শাহীন চাকলাদারের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আমির হোসেন।

বাগেরহাট-৩ আসনে খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের স্ত্রী ও উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মোংলা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী।

খুলনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস সালাম মুর্শেদীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি মোস্তফা রশীদী সুজার ভাই মোর্তজা রশীদী দারার জমজমাট লড়াই হতে পারে। সাতক্ষীরা-১ আসনে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দলের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ওয়ার্কার্স পার্টি মুস্তফা লুৎফুল্লার মধ্যে চতুর্মুখী লড়াই হতে পারে। সাতক্ষীরা-২ আসনে জাতীয় পার্টিকে লড়তে হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আ.লীগের সাবেক এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সঙ্গে। সাতক্ষীরা-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এস এম আতাউল হক, সাবেক এমপি এনডিএমের প্রার্থী এম গোলাম রেজার মধ্যে ভোটযুদ্ধ হবে।

বরিশাল বিভাগ : এ বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের ১৪টিতে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রায় সবাই আওয়ামী পরিবারের। এদের মধ্যে একজন রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও অপর একজন বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র।

বিভাগের বরগুনা-১ আসনের আ.লীগ প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথকে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী খলিলুর রহমান ও গোলাম সরোয়ার টুকুকে মোকাবিলা করতে হবে। এ জেলার অপর আসনে কোনও স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই।

পটুয়াখালীর ৪টি আসনের মধ্যে একটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জাপাকে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। স্বতন্ত্র নেই পটুয়াখালী-২ আসনেও। তবে পটুয়াখালী-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মহিববুর রহমানের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদারের ভোটযুদ্ধ জমে উঠবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকাবিলা করতে হবে পটুয়াখালী-৩ আসনের এস এম সাহজাদাকেও।

ভোলা-১ ও ২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকলেও ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিনকে মোকাবিলা করতে হবে। ভোলা-৪ আসনেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র রয়েছেন। বরিশাল-১ আসনে নেই কোনও স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবে বরিশাল-২ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী রাশেদ খান মেননকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে লড়তে হবে। মেননের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতি ফাইয়াজুল হকের লড়াই হবে। বরিশাল-৪ আসনে ভোটের আগেই স্বতন্ত্র প্রার্থী কার্যত জিতে রয়েছেন। এ আসনে আ.লীগ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি পংকজ নাথই এগিয়ে রয়েছেন।

বরিশাল-৫ সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এখানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সঙ্গে তার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বরিশাল-৬ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে। জাপার বর্তমান এমপি নাসরিন জাহান, নৌকার প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিক ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সামশুল আলম চুন্নু এ আসনে শক্ত প্রার্থী।

ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুহম্মদ শাহজাহান ওমরকে মোকাবিলা করতে হবে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান।

পিরোজপুর-১ আসনে বর্তমান এমপি শ ম রেজাউল করিমের সঙ্গে সাবেক এমপি আবদুল আউয়াল লড়ছেন দলীয় স্বতন্ত্র হিসেবে। পিরোজপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টির (জেপি) আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর বিপক্ষে লড়ছেন তারই একসময়কার এপিএস জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ।

ময়মনসিংহ বিভাগ : জামালপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের বিরুদ্ধে দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন সাজাহান আলী মণ্ডল ও জিয়াউল হক জিয়া। জামালপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে বর্তমান এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ হাসানের লড়াই হবে।

শেরপুর-১ আসনের আতিউর রহমান আতিক, শেরপুর-২ আসনের বেগম মতিয়া চৌধুরী ও শেরপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটযুদ্ধ করতে হবে।

ময়মনসিংহ-১ আসনে জুয়েল আরেংয়ের নৌকার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক সায়েমের, ময়মনসিংহ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের নিলুফার আনজুম পপির সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ সাহা, ময়মনসিংহ-৪ আসনে নৌকার মোহিত উর রহমান শান্তর সঙ্গে স্বতন্ত্র আমিনুল হক শামীম, ময়মনসিংহ-৯ আসনে বর্তমান এমপি আনোয়ারুল আবেদিন খানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালামের লড়াই জমজমাট হবে। ময়মনসিংহ-৭ আসনে লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পদত্যাগকারী পৌর মেয়র এবিএম আনিসুজ্জামানের, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে নৌকার প্রার্থী ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলকে লড়তে হবে জাতীয় পার্টির মো. নাজমুল হক, গণফ্রন্টের মো. দ্বীন ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন দিপুর সঙ্গে এবং ময়মনসিংহ-১১ আসনে নৌকার প্রার্থী কাজীম উদ্দিন আহমদের লড়াই হবে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ ওয়াহেদের। ময়মনসিংহ-৫ আসনে স্বতন্ত্র না থাকায় বেশ ঝুঁকিমুক্ত জাপার প্রার্থী।

নেত্রকোনা-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোশতাক আহমেদ রুহীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জান্নাতুল ফেরদৌস আরা ঝুমা তালুকদারের। নেত্রকোনা-২ আসনে নৌকা প্রতীকে আশরাফ আলী খান খসরুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী স্বতন্ত্র আরিফ খান জয়ের। নেত্রকোনা-৩ আসনে আ.লীগের অসীম কুমার উকিলের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে সাবেক এমপি ইফতেখার উদ্দিন তালুকদার পিন্টুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি মঞ্জুর কাদের কোরাইশীর।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলামের দুই সন্তান আ.লীগের ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপির সঙ্গে তার ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলামের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। কিশোরগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত আবদুল কাহার আকন্দের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টির মজিবুল হক চুন্নুকে তিন শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মোকাবিলা করতে হবে।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বর্তমান এমপি আফজাল হোসেনের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সুব্রত পালের ভোটযুদ্ধ জমে উঠতে পারে।

ঢাকা বিভাগ : টাঙ্গাইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের ছোট মনিরের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার, টাঙ্গাইল-৩ আসনে আওয়ামী লীগের কামরুল হাসান খানের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা, টাঙ্গাইল-৪ আসনে লড়াই হতে পারে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের। টাঙ্গাইল-৫ আসনেও লড়াই হবে আ. লীগ মনোনীত মো. মামুন-অর-রশিদ ও দলটির বর্তমান এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী সানোয়ার হোসেনের।

মানিকগঞ্জ-২ আসনে মমতাজ বেগমকে চার জন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে। তাদের মধ্যে একজন রয়েছেন সিংগাইর উপজেলা পরিষদের সদ্য পদত্যাগী চেয়ারম্যান ও একজন আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক।

মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের আ.লীগ প্রার্থী মহিউদ্দিনকে লড়াই করতে হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবীরের সঙ্গে। এ আসনে বিকল্প ধারার মাহি বি চৌধুরীও ভোট করছেন। মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে মৃণাল কান্তি দাসকে বিপদে ফেলতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব।

ঢাকা-৪ আসনে আ.লীগের সানজিদা খানম, জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু আহমেদ বাবলা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস আওলাদ হোসেনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে। ঢাকা-৫ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসান, মশিউর রহমান মোল্লা সজল ও আওয়ামী লীগের হারুনুর রশিদ মুন্নার মধ্য। ঢাকা-১৪ আসনে আ.লীগের মাইনুল হোসেন নিখিল ও দলটির নেত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা আক্তার তুহিনের মধ্যে ভোটযুদ্ধ হবে। ঢাকা-১৮ আসনে জাপার শেরিফা কাদেরকে ফেস করতে হবে তিন স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বীকে। ঢাকা-১৯ আসনে আ.লীগের ডা. এনামুর রহমানের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক এমপি তৌহিদ জং মুরাদ এবং ঢাকা ২০ আসনে বর্তমান এমপি বেনজির আহমেদকে সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মালেকের মুখোমুখি হতে হবে।

গাজীপুর-১ আসনে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে লড়ছেন দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। গাজীপুর-২ আসনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন শক্তিশালী দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আলিম উদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম। গাজীপুর-৩ আসনে আ.লীগের রুমানা আলীর প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ। গাজীপুর-৫ আসনের আ.লীগের মেহের আফরোজ চুমকির প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আখতার উজ্জামান।

নরসিংদী-১ আসনে আ.লীগ প্রার্থী নজরুল ইসলামের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক পৌর মেয়র ও শহর আ.লীগের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান এবং জেলা আ.লীগের নেতা মো. জাকারিয়া। নরসিংদী-৩ আসনে আ.লীগ প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নরসিংদী-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মনোহরদী উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম। নরসিংদী-৫ আসনে আ.লীগের রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে রায়পুরা উপজেলা আ.লীগের নেতা সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সঙ্গে।

রাজবাড়ী-১ আসনে নৌকার কাজী কেরামত আলীর সঙ্গে লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক বিশ্বাসের। রাজবাড়ী-২ আসনে আ.লীগ প্রার্থী বর্তমান এমপি জিল্লুল হাকিমের সঙ্গে লড়বেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী হক।

শরীয়তপুর-২ আসনে নৌকার প্রার্থী পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমের সঙ্গে লড়াই হবে দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খালেদ শৌকত আলীর।

ফরিদপুর-১ আসনে আ.লীগের আবদুর রহমান নৌকা নিয়ে লড়বেন বিএনএমের শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমানের সঙ্গে। ফরিদপুর-২ আসনে বর্তমান এমপি শাহদাব আকবর লড়বেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা জামাল হোসেন মিয়ার সঙ্গে। ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম হককে লড়তে হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল কাদের আজাদ (এ কে আজাদ)-এর সঙ্গে। ফরিদপুর-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী কাজী জাফরউল্লাহর সঙ্গে লড়াই হবে টানা দুইবার স্বতন্ত্র হয়ে বিজয়ী বর্তমান এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী নিক্সন চৌধুরীর।

মাদারীপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুস সোবহান ওরফে গোলাপের বিরুদ্ধে লড়বেন কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য তাহমিনা বেগম।

সিলেট বিভাগ : সুনামগঞ্জ-১ আসনে নৌকার প্রার্থী রনজিৎ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বর্তমান এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। সুনামগঞ্জ-২ আসনে নৌকা প্রতীকে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মাহমুদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী বর্তমান এমপি ড. জয়া সেনগুপ্তা। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে নৌকা প্রতীকে বর্তমান এমপি মুহিবুর রহমান মানিক লড়াই করবেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম আহমদের সঙ্গে।

সিলেট-৩ আসনে নৌকার হাবিবুর রহমান লড়বেন স্বতন্ত্র বিএমএ মহাসচিব ইশতেশামুল হক চৌধুরীর সঙ্গে। সিলেট-৫ আসনে আ.লীগের মাসুক উদ্দিন আহমেদকে লড়তে হবে জেলা আ.লীগ নেতা আহমদ আর কবিরের সঙ্গে। সিলেট-৬ আসনে আ.লীগের নুরুল ইসলাম নাহিদকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার হোসেনের সঙ্গে।

মৌলভীবাজার-২ আসনে নৌকার শফিউল আলম চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আ.লীগের শফি আহমদ সলমানের মধ্যে লড়াই হবে।

হবিগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে লড়তে হবে সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি আ.লীগ নেত্রী স্বতন্ত্র আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর সঙ্গে। হবিগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েলের লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের চারবারের এমপি আবদুল মজিদ খানের সঙ্গে। হবিগঞ্জ-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের সঙ্গে।

চট্টগ্রাম বিভাগ : ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া জাপা প্রার্থীকে লড়তে হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি জিয়াউল হক মৃধার সঙ্গে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ফিরোজুর রহমান।

কুমিল্লা-২ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি সেলিমা আহমাদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি ও হোমনা উপজেলা আ.লীগ সভাপতি আবদুল মজিদ, কুমিল্লা-৪ আসনে বর্তমান এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা-৫ আসনে আ.লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদসহ ৫ স্বতন্ত্র প্রার্থী। কুমিল্লা-৬ আসনে বর্তমান এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী আফজাল খানের মেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সংরক্ষিত আসনের এমপি আঞ্জুম সুলতানা।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির চাঁদপুর-৩ আসনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি শামসুল হক ভূঁইয়া।

ফেনী-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক এমপি স্বতন্ত্র রহিম উল্লাহ। নোয়াখালী-১ আসনে নৌকার এইচএম ইব্রাহিমের সঙ্গে লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার রুহুল আমিনের। নোয়াখালী-২ আসনে মোরশেদুল আলমের সঙ্গে লড়াই হতে পারে তমা গ্রুপের মালিক স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান ভুঁইয়ার। নোয়াখালী-৩ আসনে মামুনুর রশীদ কিরনের সঙ্গে লড়াই হবে সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের ছোট ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী মিনহাজ আহমেদ জাবেদের। নোয়াখালী-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সিহাব উদ্দিন শাহিনের। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের জোটভুক্ত জাসদের মোশারফ হোসেনের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র আ.লীগ নেতা ইস্কান্দার মির্জা শামীম ও মো. আব্দুল্লাহ।

চট্টগ্রাম-১ আসনে নৌকার প্রার্থী মাহবুব রহমান রুহেলের সঙ্গে লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের। চট্টগ্রাম-২ আসনে নৌকার খাদিজাতুল আনোয়ারের লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহানের। চট্টগ্রাম-৩ আসনে নৌকার মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে লড়াই হবে স্বতন্ত্র জামাল উদ্দিন চৌধুরীর। চট্টগ্রাম-৫ আসনে জাপার ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সঙ্গে লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর। চট্টগ্রাম-৬ আসনের এ বি এম ফজলে করিমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিউল আজম। চট্টগ্রাম-৮ আসনে জাপার সোলায়মান আলম শেঠের সঙ্গে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস ছালামের। চট্টগ্রাম-১০ আসনে নৌকার প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর সঙ্গে সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম ও নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদের ত্রিমুখী লড়াই হবে। চট্টগ্রাম-১১ আসনে নৌকার আবদুল লতিফের সঙ্গে লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিটি কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমনের। চট্টগ্রাম-১২ আসনে নৌকার প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলামের সঙ্গে লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি সামশুল হক চৌধুরীর। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে নৌকার নজরুল ইসলামের সঙ্গে লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরীর।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নৌকার প্রার্থী আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভীর সঙ্গে লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ মোতালেবের। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ কবির লিটনের।

কক্সবাজার-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন এবার মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি জাফর আলম। এ আসনে তার ছেলে তানভীর আহমেদ সিদ্দিক তুহিনও স্বতন্ত্র হিসেবে ভোট করছেন। এদিকে কক্সবাজার-২ ও ৩ এবং পার্বত্য তিনটি আসনে কোনও স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। এসব আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।

Share