বাঁধন নিজের মতো থাকেন, চলচ্চিত্র দেখেন, জীবনের গল্প লেখেন

নয়াবার্তা প্রতিবেদক : তাঁর শোণিতধারায় বইছে অভিনয়ের স্রোত। নিজেকে তাই পর্দায় মেলে ধরেন নানা অবয়বে। তুলে ধরেন বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি। তিলে তিলে নিজেকে করেছেন পরিণত। সাফল্যও পেয়েছেন মুঠোভরে। বলছি, মডেল-অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের কথা। গত বছর কান উৎসবে তাঁর ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমার প্রদর্শনীর পর থেকে এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। এক সিঙ্গেল মাদারের ভূমিকায় আরেক সিঙ্গেল মাদারের অভিনয় চলচ্চিত্র বিশ্বকে আলোড়িত করেছেন। এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেন ও পুরস্কার পায় আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের এই সিনেমা।

বর্তমানে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ঘিরেই বাঁধনের যত ব্যস্ততা। আজ ঢাকা, পরের সপ্তাহে কলকাতা, না হয় কোনো দূর দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে হাজির হতে হয় এই সিনেমার সুবাদেই। মিডিয়ার গত বছরটা ছিল বাঁধনেরই। এশিয়া প্যাসিফিক স্ট্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডসে [অ্যাপসা] সেরা অভিনেত্রীর সম্মাননা ছিল তাঁর ঝুলিতে। এ বছরও শুরু থেকেই আলোচনায় তিনি। গত ১৮ মার্চ ২৬তম আন্তর্জাতিক কেরালা চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে সেখানে যান বাঁধন। সিনেমার প্রদর্শনীতে উপস্থিত থেকে দর্শকের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন তিনি। বাংলাদেশের কোনো সিনেমা দিয়ে এবারই প্রথম শুরু হয়েছিল এই উৎসব।

বাঁধন বলেন, ‘সাউথ এশিয়ার বড় একটি উৎসবে কেরালার দর্শক রেহানাকে এতটা সম্মান দেবেন, ভাবতেই পারিনি। বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি সিনেমাকে এভাবে ভিন্ন দেশের সংস্কৃতির মানুষের ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে।’ সম্প্রতি নিউইয়র্কে অস্টিন ইন্ডিমিম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, নিউ ডিরেক্টরস নিউ ফিল্মস ফেস্টিভ্যাল- দুটিতে অংশ নিয়েছিলেন বাঁধন। সেখানে বাঁধনের সাবলীল উপস্থিতি ও ফ্যাশনেবল সব মুহূর্ত সবার দৃষ্টি কেড়েছে। এ তো গেল সিনেমার কথা, ওয়েবেও সফল বাঁধন। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের থ্রিলার নিয়ে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের তৈরি ওয়েব সিরিজ ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ দিয়ে কলকাতার দর্শকদেরও নজরে আসেন তিনি। ওই ওয়েব সিরিজে মুসকান জাবেরীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বাঁধন। এতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সম্প্রতি তিনি আউটস্ট্যান্ডিং ফার্স্ট অ্যাপিয়ারেন্স অন হইচই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

ফলে বলা যায় নানা অর্জন ও দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়ে দারুণ সময় কাটছে বাঁধনের। তাঁর কাছে প্রশ্ন ছিল, বর্ণিল এই সময় কেমন উপভোগ করছেন? ‘সময়টা ভালোই যাচ্ছে। আমি লক্ষ্যহীন ছিলাম। এমন সময় আমার জীবনে আসবে কখনোই ভাবিনি। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এটিই প্রথম সিনেমা, যা অফিসিয়ালভাবে সিলেকশন হয়ে কানে প্রদর্শিত হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় আমার নাম উঠেছে। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি। এটা ভীষণ ভালো লাগার।’- বললেন বাঁধন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বলিউডে পা রেখেছেন বাঁধন।

সম্প্রতি বিশাল ভরদ্বাজের ‘খুফিয়া’ ছবির কাজ শেষ করেছেন তিনি। এতে তাঁকে দেখা যাবে বাংলাদেশি এক মেয়ের চরিত্রে। মেয়েটি মিশন নিয়ে ইন্ডিয়ায় যায়। ঘটে নানা ঘটনা। আপাতত নতুন কোনো সিনেমা হাতে নেই তাঁর। অপেক্ষায় রয়েছেন ভালো গল্প ও চরিত্রের। আবারও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করতে চান তিনি। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে স্পেনে অনুষ্ঠিতব্য ভ্যালেন্সিয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব জোভেতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন এই নন্দিত অভিনেত্রী।

কর্মময় জীবন নিয়ে অনেক কথা হলো- এবার জানতে চাই, অভিনয়ের বাইরে বাঁধনের একান্ত সময় কাটে কী করে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘সবসময় নিজের মতো থাকতে ভালো লাগে। দেশ-বিদেশের নানা চলচ্চিত্র দেখি। ডায়েরি লেখার অভ্যাস রয়েছে। ডায়েরির পাতায় পাতায় জীবনের গল্প লিখি। মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে চলে যাই দূরে কোথাও।