
নয়াবার্তা প্রতিবেদক : বিগত সরকারের সময় অনুমোদিত প্রায় ১ হাজার ৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের অনেকগুলোর কার্যকারিতা ও বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে সরকার একদিকে এগুলো বাতিল করতে পারছে না, অন্যদিকে বাস্তবায়নও জটিল হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘ডিবেটিং বাজেট অ্যান্ড বিওন্ড’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার প্রায় ১ হাজার ৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প পেয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
‘আমরা দায়িত্বে এসে ১ হাজার ৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প পেয়েছি। এগুলো এখন আমাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। না গিলতে পারছি, না ফেলতে পারছি। তাই প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং কার্যকারিতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে,’ বলেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার ডিরেগুলেশন বা অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও ব্যয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সেমিনারে অর্থমন্ত্রী দেশের সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত মৃৎশিল্প, শীতলপাটি, হস্তশিল্প এবং লোকজ সংস্কৃতির মতো খাতগুলোকে আরও বাজারমুখী করা গেলে লাখো মানুষের আয় বাড়ানো সম্ভব।
তিনি বলেন, যে পণ্য এখন ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেটি যদি উন্নত বিপণনের মাধ্যমে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়, তাহলে সরাসরি কারিগরদের আয় বাড়বে। মানুষের আয় বাড়লে অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
লোকসংগীত, চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি ও বিনোদন শিল্পকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার ভাষ্য, গান, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র—সবকিছুকেই আমরা অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করতে চাই। বিনোদন শিল্পও জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো সংস্কার করে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যেই চলতি বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি ও সংস্কৃতি খাতের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কৃষি খাতকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কৃষি খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় আর্থিক খাতে নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, পেশাদারিত্ব ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
