মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়াল ৫১ জনে

বিশেষ প্রতিবেদক : সরকার গঠনের ছয় মাস পর মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়ল। নতুন করে পাঁচজন সদস্য মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন। আর একজন প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। সব মিলিয়ে চারজন নতুন মন্ত্রী এবং দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। রাতেই মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের দপ্তর বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়াল ৫১ জনে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী ২৬ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। আগে মন্ত্রিসভা ছিল ৪৮ সদস্যের—প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৪ মন্ত্রী এবং ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী। গতকাল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। আর তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টার সংখ্যা ১০ জনই থাকলেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর কিছুক্ষণ আগে রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শপথ নেয়। তখন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৪ জন মন্ত্রী এবং ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। মন্ত্রিসভা গঠনের তিন মাসের মাথায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করায় এই মন্ত্রীর পদটি শূন্য হয়েছিল। এরপর একাধিকবার মন্ত্রিসভায় দপ্তর পরিবর্তন ও নতুন সদস্য যুক্ত করা হয়। এখন আবার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হলো।

বঙ্গভবনে গতকাল মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শপথ গ্রহণের জন্য পর্যায়ক্রমে নতুন মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন। তাঁরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও সংসদ সদস্য (জামালপুর–১) রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং বিএনপির জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হলেন। নতুন দুই প্রতিমন্ত্রীর একজন হলেন হুমায়ুন কবির (টেকনোক্র্যাট)। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ছিলেন। অপর প্রতিমন্ত্রী হলেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন)।

কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে
শপথের পর রাতে চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মঈন খান। রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন (আগে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন)। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানমকে (রিতা) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা গঠনের তিন মাসের মাথায় দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করায় এই মন্ত্রীর পদটি শূন্য হয়েছিল।

আন্দালিভ রহমান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।

হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে শামা ওবায়েদ ইসলামও বহাল আছেন। অর্থাৎ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুজন প্রতিমন্ত্রী। শামীম কায়সার পেয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

Share