হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিশের ব্যবস্থা বাবার বাড়িতে প্রবেশ করলেন সেই দুই বোন

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : হাইকোর্টের নির্দেশে রাজধানীর গুলশানে সেই দুই বোনকে বাবার বাড়িতে তুলে দিল পুলিশ। সোমবার রাতে মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশশারা মোস্তফাকে বাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। এর আগে বাবার বাড়িতে ঢুকতে বাধার সম্মুখীন হওয়া দুই বোনকে পুলিশ প্রহরায় অবিলম্বে তাদের পৈতৃক বাড়িতে প্রবেশের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

সোমবার ছুটির দিনে আদালত বসিয়ে গুলশান থানার ওসিকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার রাতের মধ্যেই গুলশান ২ নম্বরের ৯৫ নম্বর রোডের ৪ নম্বর হোল্ডিংয়ে বাবার বাড়িতে তাদের প্রবেশ নিশ্চিত করে সুপ্রিম কোর্টকে ফোনে জানাতে বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টায় ওসি আবুল হাসানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থেকে ওই দুই বোনকে বাবার বাড়িতে তুলে দেয়। তাদের বাড়িতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি ওসি রাতেই সুপ্রিমকোর্টকে ফোনে জানিয়ে দেন।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও আহমেদ সোহেল সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই বোনকে বাড়িতে তুলে দেওয়ার আদেশ দেন। পাশাপাশি গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মুশফিকা ও মোবাশশারা এবং অভিযুক্ত অনজু কাপুরকে ১ নভেম্বর সকালে আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। পরে আদালতের এই আদেশের বিষয়টি গুলশান থানার ওসিকে অবহিত করেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান।

মুশফিকা ও মোবাশশারার বাবা বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ গত ১০ অক্টোবর মারা যান। গুলশানে ১০ কাঠা জমির ওপর তিন তলা বাড়ি তার। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দ্বিতীয় স্ত্রী অনজু কাপুরকে নিয়ে এ বাড়িতেই থাকতেন তিনি। তার মৃত্যুর পর থেকেই মুশফিকা ও মোবাশশারাকে বাবার বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেন তাদের সৎমা অনজু কাপুর। বাধা পেয়ে দিন-রাত দুই বোন পৈতৃক বাড়ির সামনে অবস্থান করেন।

কিন্তু কোনোভাবেই তারা বাড়িতে ঢুকতে পারেননি। এ বিষয়ে গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন তারা। দুই বোন তাদের গুলশানের পৈত্রিক বাড়িতে প্রবেশ করতে পারছেন না- ২৫ অক্টোবর এমন খবর প্রকাশিত হয় সমকালে। এরপর আরও কয়েকটি গণমাধ্যমে দুই বোনের খবর আসে। বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আসে। স্বপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্ট অবিলম্বে দুই বোনকে তাদের বাড়িতে প্রবেশের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান জানান, আদালতের নির্দেশে রাত সাড়ে ৯টায় মুশফিকা ও মোবাশশারাকে তাদের বাবার বাড়িতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি রাতেই আদালতকে জানানো হয়েছে। মুশফিকা বলেন, তারা বাড়িটির তৃতীয় তলায় অবস্থান করছেন। মোবাশশারার স্বামীও রয়েছেন তাদের সঙ্গে। দ্বিতীয় তলায় থাকেন অনজু কাপুর।

Share