
বিশেষ প্রতিবেদক : ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় দেশ থেকে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এই দুর্নীতির টুঁটি চেপে হলেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আজ ১৫ জুলাই বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। দুর্নীতির কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময় প্রতিবছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে রাস্তাঘাটসহ যেসব সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন, তার অন্যতম কারণ এই দুর্নীতি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুর্নীতিকে যেকোনোভাবেই হোক নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। আমরা বাহিনীকে এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, সাধারণ নাগরিক, কৃষক, শ্রমিক ও শিক্ষকদের অন্যতম প্রধান চাওয়া একটি নিরাপদ পরিবেশ। প্রত্যেক মানুষ চায় দিনশেষে কাজ শেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে এবং পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে সময় কাটাতে। জনগণের এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং জনসেবা আরও সহজ করার লক্ষ্যে সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা। তিনি জানান, দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
জনসেবাকে আরও কার্যকর ও সহজ করতে ভবিষ্যতে সব ধরনের সরকারি সেবা-সংশ্লিষ্ট কার্ড একটি ইউনিভার্সাল কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ক্ষমতায় এসে বর্তমান সরকার কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া জুলাই সনদে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাজেট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত সংসদে এ বাজেট পাস হওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তাঁর দাবি, অতীতে যেসব দেশি-বিদেশি সংস্থা নিয়মিত বাজেটের সমালোচনা করত, তারাও এবার প্রস্তাবিত বাজেটকে জনবান্ধব হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই খাতকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষা খাতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, কৃষি এবং জনসেবার উন্নয়নকে কেন্দ্র করে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাবে।
