
খুলনা প্রতিনিধি : স্বামী-স্ত্রী মিলে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে পুঁতে রেখেছিলেন বাড়ির উঠানে। গত রোজার মাসের মাঝামাঝির এই ঘটনা কেউ জানতেন না। সেই দম্পতির কলহের জেরে এত দিন পর বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এল। থানায় গিয়ে পুলিশকে পুরো ঘটনা খুলে বলেন স্ত্রী। তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে উঠান খুঁড়ে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে খুলনা নগরের হরিণটানা এলাকায়। আজ সোমবার দুপুরে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয়ের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই বাড়ির মালিক (৩০) ও তাঁর স্ত্রীকে (২২) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডটি গত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঘটেছে। বিষয়টি এত দিন সামনে আসেনি। ওই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে স্ত্রী থানায় এসে ঘটনাটি জানান। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক স্বামী-স্ত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিহত ব্যক্তির একটি ইজিবাইক ছিল। ইজিবাইকটি নিয়ে ওই ব্যক্তি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে ওই দম্পতি ইজিবাইকের চালককে হত্যা করেন। পরে ইজিবাইকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে আলাদা আলাদা করে বিক্রি করে দেন স্বামী।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে ইজিবাইকের নম্বর প্লেট পাওয়া গেছে। সেটির সূত্র ধরে খুলনা সিটি করপোরেশনে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। সেখানে জানা যায়, নিবন্ধিত মালিক মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি প্রায় চার বছর আগে এটি বিক্রি করে দিয়েছেন। নিহত ব্যক্তি মারুফ নামের কেউ হতে পারেন বা অন্য কেউ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে নিহত ব্যক্তির একটি পা ছিল না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের এই এলাকার আশপাশ বেশ ফাঁকা। অনেকটাই নির্জন এলাকা। ওই পরিবারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখতাম না। প্রায়ই ওই দম্পতির মধ্যে ঝগড়া হতো শুনতাম।’
প্রাথমিক তদন্তের তথ্যসূত্রে পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী যৌনকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই সূত্রেই কয়েক মাস আগে ওই বাড়ির মালিকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং পরে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পরও স্বামীর সহযোগিতায় আগের পেশায় যুক্ত ছিলেন ওই নারী। নিহত ব্যক্তিকেও বাড়িতে ডেকে আনা হয়। এরপর তাঁকে খাবারের সঙ্গে কোনো কিছু খাইয়ে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে তাঁকে গলা টিপে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বাড়ির সামনের উঠোনে পুঁতে রাখা হয়। বাড়িটি নির্জন এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি কারও চোখে পড়েনি।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, হত্যাকাণ্ডটি গত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঘটেছে। বিষয়টি এত দিন সামনে আসেনি। ওই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে স্ত্রী থানায় এসে ঘটনাটি জানান। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি একজন ইজিবাইকচালক বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এখনো তাঁর নাম–পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মরদেহের বেশির ভাগ অংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডির সদস্যরা কাজ করছেন।
