‘দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা ফোরামে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশ’

‘স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের সঙ্গে-সঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা ফোরামে অগ্রণী ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে’।

শুক্রবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

শনিবার প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক কার্যালয় ও আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাব-কে সঙ্গে নিয়ে সাউথ-সাউথ নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন শুক্রবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে সরকারি সেবায় উদ্ভাবনী’ শীর্ষক এক কর্মশালার আয়োজন করে।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াবলী বিভাগ এবং এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কর্মশালাটিতে সহায়তা প্রদান করে। কর্মশালাটির উদ্বোধনীতে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং জাতিসংঘের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক কার্যালয়ের পরিচালক ও জাতিসংঘ মহাসচিবের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক বিশেষ দূত জর্জ সেডিয়েক। এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. অ্যালেক্স ব্রিলিয়ানটেস্ জুনিয়র এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার মডারেটর ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনির চৌধুরী।

কিভাবে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে সরকারি সেবায় উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো যায় রাষ্ট্রদূত মাসুদ তার বক্তব্যে সে বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা ব্যবহার করে সরকারি সেবাকে কিভাবে আরও আধুনিক ও জনমুখী করা যায় সে বিষয়টিও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ।

তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশেষ করে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণের দেশগুলো এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে। স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের সঙ্গে-সঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা ফোরামে অগ্রণী ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলে স্থায়ী প্রতিনিধি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চীনসহ দক্ষিণের এগিয়ে থাকা দেশগুলো দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি সেবার উৎকর্ষ সাধনে তথ্য-প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময় করতে পারে যা সামগ্রিকভাবে এ অঞ্চলের দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। বাসস।