এখনও গানটি শুনলে একাত্তরের স্মৃতি ভেসে ওঠে: শাহীন সামাদ

বিনোদন প্রতিবেদক : সংগীত কীভাবে মুক্তিকামী মানুষের হাতিয়ার হয়ে ওঠে- তার জ্বলন্ত উদাহরণ ১৯৭১। সম্মুখযোদ্ধাদের সাহস-শক্তি জোগাতে, স্বাধীন দেশের মানচিত্র ছিনিয়ে আনতে গানই হয়ে উঠেছিল বড় হাতিয়ার। সে সময়ের কালজয়ী গান ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’ । এই গানের পেছনের গল্প নিয়েই কথা বলেছেন শাহীন সামাদ

মুক্তিসংগ্রামী মানুষের কথা ভেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে নিরলস কাজ করে গেছি। সদ্য তারুণ্যে পা রাখা আমার জন্য এটি ছিল এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি যে, প্রথম দিন বালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান রেকর্ডিং স্টুডিওতে একসঙ্গে আমাদের আটটি গান রেকর্ড করা হয়েছিল। তখন সরাসরি গান রেকর্ড করা হতো। ভুল হলে নতুন করে আবার গাইতে হতো। রেকর্ডিং করার আগে আমরা ২৫ থেকে ৩০ জন দল বেঁধে রিহার্সেল করতাম। রিহার্সেলের জন্য দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তার ড্রয়িং রুম ছেড়ে দিয়েছিলেন। ঘর বড় হলেও শিল্পী, সুরকার, বাদক- সবার ভিড় সামলানো কঠিন ছিল। তার পরও একটা ঠাঁই আছে- এটাই ছিল বড় সান্ত্বনা।

তাই নাওয়া-খাওয়া ভুলে আমরা গানের রিহার্সেল করতাম। এরপর শুরু হতো লাইভ রেকর্ডিং। এভাবেই ‘শিকল পরা ছল’, ‘কারার ওই লৌহকপাট’, ‘আমার প্রতিবাদের ভাষা’, ‘ওই পোহাইল তিমির রাত্রি’, ‘ব্যারিকেড-বেয়নেট-বেড়াজাল’সহ অন্যান্য গানের মতো ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি রেকর্ড এক দিনের রিহার্সেলের পর সরাসরি রেকর্ড করা হয়। বলতে গেলে অগ্নিঝরা দিনের প্রতিটি গানের গল্পই প্রায় একই রকম। ব্যতিক্রম শুধু গীতিকার, সুরকারের নাম। সিকান্দার আবু জাফরের লেখা এই গানের সুর করেছিলেন শেখ লুৎফর রহমান। মনে আছে, গান গাওয়ার পর অন্যরকম এক অনুভূতিতে মনটা ছেয়ে গিয়েছিল। এখনও গানটি শুনলে একাত্তরের স্মৃতি ভেসে ওঠে।