গান নয়, সে ছিল বারুদ: আপেল মাহমুদ

বিনোদন প্রতিবেদক : সংগীত কীভাবে মুক্তিকামী মানুষের হাতিয়ার হয়ে ওঠে- তার জ্বলন্ত উদাহরণ ১৯৭১। সম্মুখযোদ্ধাদের সাহস-শক্তি জোগাতে, স্বাধীন দেশের মানচিত্র ছিনিয়ে আনতে গানই হয়ে উঠেছিল বড় হাতিয়ার। তেমনই কালজয়ী ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’। এই গানের পেছনের গল্প নিয়েই কথা বলেছেন এর গায়ক আপেল মাহমুদ।

একজন সাদাসিধে মানুষের মনের মধ্যে কতটা আগুন লুকিয়ে থাকতে পারে, তা জেনেছিলাম গোবিন্দ হালদারের গীতিকবিতা পড়ে। একাত্তরের জুন মাসের কথা। তখন আমাদের ঘরবাড়ি-ঠিকানা বলতে একটাই, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। থাকা-খাওয়া-ঘুমানো-গান বাঁধা-গান গাওয়া, এই ছিল নিয়মিত রুটিন। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে স্ব্বাধীন দেশের পতাকাতলে দাঁড়ানোর স্বপ্নে বিভোর ছিলাম আমরা। হঠাৎ একদিন গোবিন্দ হালদার নামের মানুষটি সামনে এসে দাঁড়ালেন।

সে দিনই প্রথম পরিচয়। তার কথা থেকেই জানতে পারি, লেখালেখি রক্তে মিশে আছে। এরপর গোবিন্দ হালদার আমার হাতে তুলে দেন তার লেখা গানের একটি পাণ্ডুলিপি। যে পাণ্ডুলিপির একেকটি গীতিকবিতায় চোখ বুলিয়ে কোনোভাবেই মেলাতে পারিনি গোবিন্দ হালদারের সাদাসিধে অবয়বের সঙ্গে। কারণ, তার পাণ্ডুলিপিতে গান নয়, সে ছিল বারুদ। তাই বিস্ময় নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করেছি, একজন মানুষের মনে কতটা আগুন লুকিয়ে থাকলে এমন সব গান লেখা যায়? তার অন্যান্য গানের মতো ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ গানের কথাগুলো পড়েও অবাক হয়েছিলাম।

মুগ্ধ হয়েছিলাম গানের কথায় বিশ্বশান্তি, নারী, ফুল, মাটি আর মানুষের কথা কী চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা দেখে! শব্দ মানুষকে কাঁদাতে পারে, হাসাতে পারে, ভাসাতে পারে, মনের মাঝে জন্ম দিতে পারে রাগ-ক্ষোভ-জ্বালা; করে তুলতে পারে বিদ্রোহী- গণসংগীত গাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে এটা জেনেছি।