
নয়াবার্তা প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ মঙ্গলবার দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।
বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে। ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বক্তব্য, তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর দলের সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
যেভাবে ঘটনা ছড়ায়
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের একটি ঘরোয়া সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে থাকে। ফুটেজে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে অবস্থান করতে দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রথম দিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও। তবে ফ্যাক্টচেক ও তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জানায়, ভিডিওটিতে এআই বা ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি।
দলের ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
ভিডিওটি নিয়ে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’ বিয়ে কবে হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তারিখ তাঁর জানা নেই, তবে বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিয়ের তারিখ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা অসঙ্গতি:
বিয়ের তারিখ ও সিসিটিভি ফুটেজ: গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ১৮ বছর বয়সী মরিয়ম বেগমের সঙ্গে ২০২৬ সালের ১৭ জুন তাঁর বিয়ে হয়। তবে ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প নির্দেশ করছে এটি ২০২৩ সালের জুলাই মাসের দৃশ্য। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য জানান, তাদের কাছে তাৎক্ষণিক কাবিননামা না থাকলেও সংগ্রাহকের মাধ্যমে তা সংগ্রহ করা সম্ভব।
ঘটনাস্থল ও সম্পর্কের দাবি: মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ জানান, গত ১৭ জুন মগবাজারে তাঁর কার্যালয়ে ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে এই বিয়ে হয় এবং ভিডিওটি ওখানকারই। তিনি তাঁর সহকারী ও শ্যালক ওবায়দুল্লাহর বিরুদ্ধে ফুটেজ ফাঁসের অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে, গাজী নজরুল ইসলাম লিখিত বিবৃতিতে জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি দুই স্ত্রীসহ মগবাজারের ওই কার্যালয়ে গেলে তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ পরিকল্পিতভাবে কয়েকজনকে নিয়ে এসে তাঁদের হয়রানি করেন এবং চাঁদা দাবি করেন।
বায়োডাটা ও নথির অসঙ্গতি
ভাইরাল হওয়া একটি বায়োডাটায় দেখা যায়, ২০২৬ সালের ২২ জুন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সবুজ কালিতে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। বিয়ের দাবিকৃত তারিখের (১৭ জুন) পর কেন এই নথিতে তাঁকে অবিবাহিত দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া, উক্ত বায়োডাটা অনুযায়ী তাঁর বর্তমান বয়স ১৮ বছর ২ মাস এবং তিনি ২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট তরুণী ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ সংযোগ বন্ধ পাওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আইনগত বা স্বাধীন তদন্তের রূপরেখা পাওয়া যায়নি।
