
গাজী আবু বকর : দেশ থেকে অর্থপাচার বন্ধের কারণে প্রতি মাসেই প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর হার বাড়ছে। চলতি মে মাসের প্রথম ১৬ দিনে বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যনেলে ১৯৬ কোটি বা ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে যার পরিমাণ ২৪ হাজার ১০৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ প্রবাসী আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। আগের বছরের পুরো মে মাসের ৩১ দিনে প্রবাসী আয় এসেছিলো ২৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার বা ২ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে প্রবাসী আয় ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। গতকাল রোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
২,৯৬৯.৫৬
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৬ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৪ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৩ কোটি ২৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৩৮ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর দেশে ব্যবসারত বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। একক ব্যাংক হিসাবে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আসে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার বা ২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, আগস্টে আসে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার বা ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে আসে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার বা ২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অক্টোবরে আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার বা ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, নভেম্বরে আসে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ৩০ হাজার বা ২ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ডিসেম্বরে আসে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার বা ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ছিলো চলতি অর্থবছরে ঐ সময়কাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড। জানুয়ারিতে আসে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার বা ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ফেব্রুয়ারিতে আসে ৩০১ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার বা ৩ দশমিক ০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মার্চে আসে সকল রেকর্ড ভাঙা ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার বা ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স।
উল্লেখ্য, প্রবাসী আয় হলো দেশে ডলার জোগানের একমাত্র দায়বিহীন উৎস। কারণ, এই আয়ের বিপরীতে কোনো বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয় না বা কোনো দায়ও পরিশোধ করার দরকার পড়ে না। অন্যদিকে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে দেশে ডলার এলেও তার জন্য কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি করতে আবার বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয়। আবার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতেও ডলারের প্রয়োজন হয়। ফলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলারের রিজার্ভ বা মজুত দ্রুত বৃদ্ধি পায়। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোয় ডলারের যে সংকট চলছিল, তা অনেকটা কেটে গেছে বলে জানান কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, ডলারের দাম নিয়ে যে অস্থিরতা ছিল, তা-ও কিছুটা কমে এসেছে। ব্যাংকগুলো এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ ১২৩ টাকার মধ্যেই প্রবাসী আয় কিনছে।
