৯ মাসে রেমিট্যান্স এলো ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার

গাজী আবু বকর : চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে দেশে বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যনেলে ২ হাজার ৬২০ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার বা ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর হার প্রতি মাসেই বাড়ছে। বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে ৩৮ বিলিয়ন রেমিট্যান্স আসবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় আসে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। দ্বিতীয় মাস আগস্টে প্রবাসী আয় আসে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয় আসে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অক্টোবর মাসে প্রবাসী আয় আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার। নভেম্বর মাসে প্রবাসী আয় আসে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয় আসে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। জানুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় আসে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় আসে ৩০১ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আর মার্চ মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

দেশে গত অর্থবছরের মার্চ মাসে রেমিট্যান্স ইতিহাসের সকল রেকর্ড ভাঙা ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার বা ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার এসেছিলো। চলতি অর্থবছরের মার্চ মাসে রেমিট্যান্স ইতিহাসের সেই রেকর্ড ভেঙে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

উল্লেখ্য, প্রবাসী আয় হলো দেশে ডলার জোগানের একমাত্র দায়বিহীন উৎস। কারণ, এই আয়ের বিপরীতে কোনো বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয় না বা কোনো দায়ও পরিশোধ করার দরকার পড়ে না। অন্যদিকে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে দেশে ডলার এলেও তার জন্য কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি করতে আবার বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয়। আবার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতেও ডলারের প্রয়োজন হয়। ফলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলারের রিজার্ভ বা মজুত দ্রুত বৃদ্ধি পায়। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোয় ডলারের যে সংকট চলছিল, তা অনেকটা কেটে গেছে বলে জানান কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, ডলারের দাম নিয়ে যে অস্থিরতা ছিল, তা-ও কিছুটা কমে এসেছে। ব্যাংকগুলো এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ ১২৩ টাকার মধ্যেই প্রবাসী আয় কিনছে।

Share