
নয়াবার্তা জেলা প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে দুই দফায় বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে প্রায় ছয় ঘণ্টার চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে তাদের আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।
শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে চৌকা সীমান্তের ১৭৭/২ আর পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সুখদেবপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ২০ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবির তৎপরতায় তারা বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি।
পুশইনের শিকার ২০ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং চারজন শিশু রয়েছে। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে অবস্থান নেন।
ফলে ওই ২০ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় প্রায় ছয় ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হন।
সকালে সাড়ে ৮টার দিকে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে বিএসএফ শূন্যরেখায় অবস্থানরত ২০ জনকে সরিয়ে নিতে সম্মত হয়। তবে বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা আবারও ওই ২০ জনকে বাংলাদেশের দিকে আনার চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে উভয় দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭৮/৩ এস পিলারসংলগ্ন সুখদেবপুর এলাকায় বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়। এর মাধ্যমে অনুপ্রবেশের চেষ্টা সম্পূর্ণরূপে প্রতিহত করা হয়।
স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, পুশইনের শিকারদের মধ্যে একটি শিশু গুরুতর অসুস্থ ছিল। শিশুটির মা তাকে বারবার শূন্যরেখায় শৌচকাজ করাতে বাধ্য হন। পরে তাদের কাছ থেকে জানা যায়, শিশুটি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়া একজন নারীও অসুস্থ ছিলেন। এমন অবস্থায় তাদের ছয় ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে রাখা অমানবিক।
এদিকে বিকেলে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবির ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেলা ১২টার দিকে বিএসএফ ওই ২০ জনকে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।
তিনি বলেন, সীমান্তে স্থানীয়দের উপস্থিতি এবং ২০ জনকে শূন্যরেখায় আনার চেষ্টার কারণে কয়েক দফা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিজ নিজ অবস্থানে সতর্ক রয়েছে।
বিজিবির এ কর্মকর্তা আরও বলেন, সব ধরনের পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি টহল তৎপরতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
