রাজধানীতে অপরাধ-দুর্ঘটনা: ঢামেকে তিন দিনে ছয় লাশ

নয়াবার্তা প্রতিবেদক : রাজধানীতে গত তিন দিনে পৃথক ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত পাঁচজন। তাদের মধ্যে ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক নেতাও রয়েছেন।

একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে চারজনের মৃত্যু ঘটেছে। এছাড়া পূর্ব জুরাইনে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং ঢামেক হাসপাতাল চত্বর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় কবরস্থান রোড এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মো. রুবেল (৩০) আহত হন। জানা যায়, ভোরে হেঁটে যাওয়ার সময় তিন-চারজন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

পরে তার কাছে থাকা নগদ ৫ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। আহত রুবেল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিন সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পেছনে রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীকে (বয়স প্রায় ৪০ বছর) অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন। ওই নারীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

এছাড়া শনিবার দুপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় তরিকুল ইসলাম (৬৮) নামে এক কয়েদিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায়। ওই কয়েদির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শনির আখড়ার ধনিয়া কলেজের সামনে সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় বাইজিদ (১৬) ও সাব্বির (১৭) নামে দুই কিশোর আহত হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য পিংকে, রাকিব, মেঘলা, নেওয়াজসহ ১৫ থেকে ২০ জন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করে। পরে আহতদের প্রথমে যাত্রাবাড়ী রয়েল হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ হাউজিং এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম (৫৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে বাসার নিচে নামলে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয়জন দুর্বৃত্ত তার মুখ, কাঁধ ও হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

একইদিন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অজিত বাবু (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। শুক্রবার সকালে শ্যামপুরের পোস্তগোলা যাত্রীছাউনির সামনে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ মাইক্রোবাসটি জব্দ ও চালককে আটক করেছে।

এছাড়া শুক্রবার দুপুরে গুলিস্তানের হোটেল রমনায় সৌদি প্রবাসী আলআমিনের (৪০) মৃত্যু হয়েছে। হোটেলের একটি কক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি তদন্ত করছে রমনা থানা পুলিশ।

একইদিন সকালে ধানমন্ডির একটি ১০তলা ভবন থেকে নিচে পড়ে রিক্তা আক্তার (১১) নামে এক শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনা নয়, এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

অন্যদিকে পূর্ব জুরাইনে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে আব্দুল কুদ্দুস (৫০) নামে এক বাসচালককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে কদমতলীর পপি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্ত তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, তার শরীরে অন্তত ১২০টি জখমের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক এসব ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক এসব ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেন।

Share